শুনতে কী পাও
রিফাত আবির, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ১২:২৫ পিএম
অবৈধ ঘের আর কচুরিপানায় এক কালের প্রমত্তা তিতাস খালের আকার ধারণ করেছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রবাহিত ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিতাস নদীতে অবৈধভাবে কয়েকশ মাছের ঘের তৈরি করে নির্বিচারে রেণু ও মা মাছসহ বিভিন্ন মাছ শিকার করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীতে অবৈধ ঘেরের কারণে কচুরিপানা আটকে গিয়ে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একসময় প্রচণ্ড খরস্রোতা এই নদী এখন অনেকটা মরা খালে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নদীতে ঘের দিয়ে নির্বিচারে মাছ শিকার চললেও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঘেরমালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নৌপথ বন্ধ হওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে স্থলপথে মালামাল আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে। কচুরিপানা আটকে গিয়ে পচে নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ায় তিতাসপাড়ের মানুষদের দৈনন্দিন কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে। ঘেরের কারণে স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় ডুবোচর জাগছে। যার ফলে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীতে অবৈধভাবে ঘের নির্মাণ করছেন এবং চিকন জাল দিয়ে ঘের থেকে মাছ নিধন করছেন। মা ও পোনা মাছ অবাধে ধরছে ঘেরমালিকরা।
তিতাস নদী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী থেকে বাঞ্ছারামপুরের কালিকাপুর, জয়কালিপুর ও পার্শ্ববর্তী নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবেশ করেছে। তিতাসের পূর্ব পাড়ে নবীনগরের ছলিমগঞ্জ পার হয়ে আকানগর, তেজখালি হয়ে দরিকান্দিতে এসে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে নদীটি। এক অংশে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার সীমানা ঘেঁষে দরিকান্দি ইমামনগর, ভিটিবিশারা, গকুলনগর, ফরদাবাদ, ডোবাচাইল, ঝুনারচর, ভুরভরিয়া, রামকৃষ্ণপুর, গঙ্গানগর, তাতুয়াকান্দি, পাইকারচর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে; অপর অংশটি দরিকান্দি থেকে খাল্লা, বাহাদুরপুর, কাঞ্চনপুর, মধ্যনগর, ডোমরাকান্দি, কালাইনগর, আছাদনগর, শরীফপুর, সাহেবনগর, বাঞ্ছারামপুর, কমলপুর হয়ে পাইকারচর এসে মিলিত হয়ে উজানচর, বুধাইরকান্দি, রাধানগর, কালিকাপুর হয়ে পার্শ্ববর্তী হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দির পাশ দিয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা অংশের তিতাস নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ৫০০ অবৈধ মৎস্য ঘের রয়েছে। মাছ শিকারে ঘেরমালিকরা একেবারেই ঘন জাল ব্যবহার করছেন। এসব জাল থেকে কোনো ধরনের মাছই বের হতে পারে না। ফলে ছোট-বড় মাছের সঙ্গে পোনা মাছও ধরা পড়ছে ফাঁদে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদা আক্তার বলেন, ‘এসব অবৈধ মাছের ঘের উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছি। এগুলো শতভাগ অবৈধ; নদীতে নৌ চলাচল ও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবেÑ এমন কোনো কাজ করা যাবে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একি মিত্র চাকমা জানান, নদীতে অবৈধ মাছের ঘেরের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করা হবে। নৌ চলাচল বিঘ্নিত হয়Ñ এমন কোনো কাজ নদীতে করা যাবে না।