বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৩ ১৮:২৪ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩ ১৯:০৬ পিএম
বরগুনা লঞ্চ ঘাট। প্রবা ফটো
বরগুনা-ঢাকা
নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়ায়
চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার
(২২ আগস্ট) থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা
করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। লঞ্চ মালিকপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে
গত এক বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে তাদের। তাই বাধ্য হয়ে লঞ্চ চলাচল
বন্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার
সরেজমিনে বরগুনা লঞ্চ ঘাটে গেলে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা
এসে ফিরে যাচ্ছেন। এ সময় আহসান হাবীব নামে এক যাত্রী বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ
বাসে না গিয়ে লঞ্চে যাতায়াত করত। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য লঞ্চ চলাচল বন্ধের খবরে
চরম ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা।
ঢাকা-বরগুনা
রুটে চলাচলরত এম কে শিপিং লাইন্স কোম্পানির বরগুনা ঘাটের ম্যানেজার এনায়েত হোসেন বলেন,
আগে এই পথে চলাচলকারী একেকটি লঞ্চে বরগুনা নদীবন্দর ঘাট থেকেই প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০
যাত্রী হতো। বর্তমানে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ২০০-৩০০ যাত্রী হচ্ছে। যাত্রী সংকট
দেখা দিয়েছে।
বরগুনা
ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জহিরুল হক পনু বলেন, এই পথের লঞ্চ চলাচল অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
প্রাচীন এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরগুনার ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে। পণ্য
পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যার প্রভাব পড়বে বাজারে। এতে
ক্রেতারাও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বরগুনা
জেলা যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস বলেন, বরগুনা জেলার ইতিহাস
ঐতিহ্যের সঙ্গে লঞ্চ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুধু কম ভাড়াই নয়, লঞ্চ ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক।
এভাবে লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় আমরা ব্যথিত হয়েছি। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়
আমরা আলোচনায় বসব।
বরগুনা
নদীবন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ করার পর আমি এম কে
শিপিং লাইন্স কোম্পানির মালিককে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর
আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।