বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৩ ১৮:০৫ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। প্রবা ফটো
রোগীর
মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে ভাঙচুরের
অভিযোগে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের
কর্মবিরতি। সোমবার (২১ আগস্ট) রাতে এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার
(২২ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
ইন্টার্ন
চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মো. রাকিব হোসেন বলেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তাসহ অনেকগুলো দাবি
আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছি। দাবিগুলো সমাধানের নিশ্চয়তা দিলেই কাজে ফিরব। বিকালে
আবার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিং আছে।’
এর
আগে বেলা সোয়া ১টার দিকে কর্মবিরতি নিরসনের লক্ষ্যে হাসপাতালের কনফারেন্স হলে হাসপাতালের
পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক ভূঞা ইন্টার্ন চিকিৎসদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে
বসেন। বৈঠকটি বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠক থেকে
বেরিয়ে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক ভূঞা অপেক্ষামান সাংবাদিকদের সঙ্গে
কথা বলতে রাজি হননি। শুধু বলেন, সময় নিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বিকালের মধ্যে তাদের
সিদ্ধান্ত জানাবে।
সোমবার
রাতে কর্মবিরতি ঘোষণার পরপরই হাসপাতালের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন সব ইন্টার্ন
চিকিৎসক। এর আগে বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগী মারা যান। রোগীর স্বজনরা
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের হেনস্থা
করেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডের ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে ভাংচুর চালায়।
এ
ঘটনায় তাৎক্ষণিক চারজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- রোগীর ভাই আবদুল মালিক ও ছেলে
সাবেল আহমদ, জুবেল আহমদ ও জুয়েল আহমদ।
সিলেট
মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন। তিনি জানান, এসএমপির মোগলাবাজার থানার কুচাই এলাকার সাহাব উদ্দিন নামে এক রোগী
রবিবার (২০ আগস্ট) করোনারি সমস্যা নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার বিকালে তিনি
মারা যান। এ সময় রোগীর সঙ্গে থাকা লোকজন ও স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালে ভাংচুর
ও স্টাফদের মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
রোগীর
ভাই আবদুল মালিকের অভিযোগ, সুচিকিৎসা না পেয়েই তার ভাই রোগী মারা গেছেন। ভর্তির পর
থেকে চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। একাধিকবার ডেকে ডাক্তার ও নার্সকে রোগীর কাছে আনা
যেতো না।