ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৩২ পিএম
মারধর ও শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা রবিউল হাসান। প্রবা ফটো
ফেনীর সোনাগাজীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তিন ছাত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির মামলায় ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২০ আগস্ট) রাতে শহরের ট্রাংক রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম- রবিউল হাসান। তিনি উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক ছিলেন। রবিবার রাতে রবিউল ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে ফেনী শহরে যান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের ট্রাংক রোড থেকে রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। সোমবার বিকালে তাকে আদালতে তোলা হবে। পুলিশ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সোনাগাজী সরকারি কলেজের তিন এইচএসসি পরীক্ষার্থী উপজেলার বক্তারমুন্সি শেখ শহীদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা শেষ করে ডাকবাংলা এলাকায় একটি দোকানে নাস্তা করে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা রবিউল হাসান কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ওই দোকানে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করে। একপর্যায়ে রবিউল হাসান শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে একজনের নামপরিচয় জিজ্ঞেস করে বলে, তোকে ফেসবুকে রিকয়েস্ট পাঠাইছি। দ্রুত এক্সসেপ্ট করবি; না হয় ভালো হবে না। ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে দোকানের ভেতর তাকে মারধর ও বোরকা-হিজাবসহ হাত ধরে টানাটানি করে।
এক পর্যায়ে ছাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। পরে রবিউলসহ সহযোগীরা আরেকটি গাড়ি নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। ফেসবুকে রিকয়েস্ট পাঠানো ছাত্রীকে অটোরিকশাকে থেকে নামিয়ে ফের মারধর করা হয়। এ সময় অপর দুই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। খুলে ফেলা হয় তাদের বোরকা ও হিজাব। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছাত্রলীগ নেতা রবিউলসহ সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে এক ছাত্রী বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন- উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রবিউল হাসান, সহযোগী হেলাল উদ্দিন, তুষার, মুরাদ ও মো. ফারুক।