শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১২ পিএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৩২ পিএম
রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ। প্রবা ফটো
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবের ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া কান্দায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল এই রাস্তাটির সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার ১৮ (আগস্ট) অভিনব কায়দায় এই প্রতিবাদ জানান তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাঙ্গালিয়াকান্দা ও খলিশাকুড়া গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার লোকের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। বর্ষাকালে এই রাস্তাটি কাদা জলের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এ কারণে এলাকাবাসীর চলাচলে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন আলী বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে জুতা হাতে নিয়েই তিন কিলোমিটার কাঁদা রাস্তা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। শিক্ষার্থী, পথচারী, রোগী সবাইকেই পোহাতে হয় ভোগান্তি। এই গ্রাম থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলা হাসপাতালের দুরত্ব প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার। দূরত্ব বেশি হওয়ায় এ গ্রামের অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। কাঁচা রাস্তা হওয়ার কারণে অনেক সময় যানবাহনও পাওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘দিন যায়, বছর যায় কিন্তু রাস্তার কোনও উন্নয়ন নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আসে যায়। কিন্তু রাস্তার কোনও উন্নয়ন হয় না। ভোটের সময় আশ্বাস দেওয়া হয়, পরে তা ভুলে যান।’
আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গ্রামের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধানসহ অন্য পণ্য বাজারে নিলে এই খারাপ রাস্তার কারণে যানবাহনে বেশি পরিবহন খরচ দিতে হয়। তাই আমরা কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
কলেজ ছাত্র সাঈম হাসান বলেন, ‘খারাপ রাস্তার কারণে আমরা এখানে রিকশা বা ভ্যানগাড়ি পাই না। ফলে স্কুলে কলেজে ক্লাস করতে বা পরীক্ষা দিতে সময় মতো পৌঁছাতে পারি না।’
গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তাটি এরশাদ সরকারের আমলে করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর কেউ এই রাস্তার সংস্কার কাজ করেনি। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই আসন্ন স্মার্ট যুগের এলাকার মানুষ হয়েও আমরা এই রাস্তার জন্য দীর্ঘদিন যাবত ভুগছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকার জন প্রতিনিধিদের কাছে বার বার এই রাস্তার জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত আমরা এর কোন সমাধান পাইনি। তাই আমাদের এই কষ্টের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা এলাকাবাসী মিলে এই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করেছি, যাতে সরকার এটি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’
বাঘবেড় ও নয়াবিল ইউনিয়নের যাতায়াতের এ রাস্তাটির ব্যাপারে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ওই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল কিংবা এলজিএসপির কোন প্রকল্প নেই। এ ছাড়া রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সরকারিভাবে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।’