× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমডাঙ্গার বিলে বাবুলের ড্রাগন

রফিকুল আলম, অভয়নগর (যশোর)

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৩ ১১:২২ এএম

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ২০:৩১ পিএম

নিজের ড্রাগন ফলের বাগানে এনামুল হক বাবুল। প্রবা ফটো

নিজের ড্রাগন ফলের বাগানে এনামুল হক বাবুল। প্রবা ফটো

যশোরের অভয়নগর উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামঘেঁষা বিল। সেই বিলে এখন চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। গাছে গাছে ঝুলে আছে শত শত ফল। প্রতিটি গাছে ৮ থেকে ১০টি করে কাঁচা, পাকা ও আধাপাকা ড্রাগন ফল শোভা পাচ্ছে। বিলের মধ্যে ফল চাষ মোটেই সহজ ছিল না। এর জন্য সঠিক পরিকল্পনার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। জমি চাষ উপযোগী করতে সবার আগে সেখানে উঁচু করতে হয়েছে মাটি ফেলে। তারপর এসেছে সফলতা। এই কঠিন কাজটি যিনি করে দেখিয়েছেন, তিনি অভয়নগরের বাসিন্দা এনামুল হক বাবুল। যার পেশা মূলত রাজনীতি ও ব্যবসা। আর এখন কৃষি উদ্যোক্তাও।

বাবুলের ড্রাগন চাষের অভিজ্ঞতা বেশি দিনের নয়। ২০২১ সালে আমডাঙ্গা বিলে নিজের ৩৮ শতাংশ জমিতে লাগান ২ হাজার ৫০০টি ড্রাগন চারা। প্রথমবার তেমন লাভবান হতে না পারলেও পরেরবারই বেশ লাভের মুখ দেখেন তিনি। এখন তাকে সফল ড্রাগন চাষি বলা যায়। বাণিজ্যিকভাবে তিনি উপজেলার দ্বিতীয় ড্রাগন ফলচাষি বলে দাবি করেন বাবুল।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বাবুল জানান, জমি চাষ উপযোগী করতে তিন ফুট উঁচু করে মাটি ভরাট করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় খরচ পড়েছে ১০ লাখ টাকারও বেশি। ১৬ মাস পর গত বছর তার ড্রাগন বাগানে ফলন আসে। এরই মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রিও করেছেন।

বাবুল বলেন, আশা করছি এ বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারব। বাগান থেকেই প্রতি কেজি ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এই দামে বিক্রি করেও ভালো লাভ থাকে। একটি গাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। তিনি জানান, ইউটিউবে ড্রাগন ফলের চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। যে আশা নিয়ে ড্রাগনের চাষ শুরু করেন, তার চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। প্রথমদিকে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় বাড়তি খরচ করতে হয়েছিল। তবে এখন দক্ষতা অর্জন করে ফেলেছেন।

বাবুল তার ড্রাগন বাগানে ফলের পাশাপাশি চারাও উৎপাদন করছেন। এরই মধ্যে তিনি ৫ থেকে ৬শ ড্রাগনের চারা উৎপাদন করেছেন। সেই চারা নিয়ে নতুন জায়গায় চারা লাগিয়েছেন এবং আরও লাগাবেন।

তিনি স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের মাঝে ড্রাগন ফল চাষের আগ্রহ তৈরি করছেন। আগ্রহীরা তার কাছ থেকে চারা নিয়ে বাগানও করছেন। তিনি তাদের ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেন।

বাবুল জানান, ড্রাগন চাষে রাসায়নিক সারের ব্যবহার উচিত নয়। সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করেই এ ফল উৎপাদন করা দরকার। ড্রাগনের চারা একবার লাগাতে পারলে কমপক্ষে ২০ বছর এ বাগান থেকে আয় করা সম্ভব। ড্রাগন ফল চাষে শুধু দরকার উঁচু জমি, যেখানে কখনোই পানি জমে না। আর দরকার সঠিক পরিচর্যা। ড্রাগন ফল চাষে প্রথম পর্যায়ে বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় এবং পরবর্তী সময়ে খরচ কম। এ কারণে অনেক কৃষকের আগ্রহ থাকলেও চাষ করতে পারছেন না। বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা আছে।

বছরে কয়বার ফল পাওয়া যায় এমন প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক বাবুল বলেন, শীত মৌসুমসহ প্রায় চার মাস বাদে বছরের বাকি আট মাসই ড্রাগনের ফলন অব্যাহত থাকে। ১৫ দিন পরপর ফল তোলা যায়।

এনামুল হক বাবুলের বাগানে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সবুজের সমারোহ। প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতার প্রতিটি কংক্রিটের খুঁটি পেঁচিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফলের গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে ৮ থেকে ১০টি করে কাঁচা, পাকা ও আধা পাকা ড্রাগন ফল।

এ ছাড়া তিনি ৭৫ বিঘা জমিতে উন্নত প্রযুক্তিতে পাবদা মাছ, কার্প ও তেলাপিয়া মাছ চাষে যথেষ্ট সাফল্য লাভ করেছেন। তিনি তার এসব ফার্মে ৭-৮ জন কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। এখানে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাগানের দায়িত্বে থাকা শহিদুল ইসলাম জানান, এক বছর আগে নিজের ৩৮ শতাংশ জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন বাবুল। প্রথমে ৫৫ টাকা করে ২,৫০০টি ড্রাগন ফল গাছের চারা এনে রোপণ করেন তিনি। রোপণের চার মাসেই গাছে ফল আসে। প্রথমবার প্রতিটি গাছে ৪ থেকে ৫টি ফল এলেও এই বছর দ্বিতীয়বারে প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ২০টি ফল আসছে।

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, শুনেছি উপজেলার আমডাঙ্গা বিলে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফল একটি লাভজনক চাষ। রোগ-বালাই কম হয়। নিষ্কাশিত ও অধিক জৈব পদার্থযুক্ত জমিতে ফলন খুব ভালো হয়। শিক্ষিত এবং তরুণ উদ্যোক্তা যারা আছেন, তাদের জন্য ড্রাগন চাষ সম্ভাবনাময় হতে পারে। ড্রাগন ফল চাষের সঙ্গে সাথি ফলন হিসেবে অন্যান্য সবজিও চাষাবাদ করা যায়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা