তানভির হাসান, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম
মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরীর তীরে মুক্তারপুর-রিকাবীবাজার সড়ক নির্মাণকাজ শেষ না হতেই নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। প্রবা ফটো
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী শহর রক্ষাবাঁধ ঘেঁষে মুক্তারপুর-রিকাবীবাজার ১ হাজার ৩০০ মিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই নদীতে ভেঙে যাচ্ছে সড়ক। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ মিটার সড়কের অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সড়কের অধিকাংশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে মুক্তারপুরের ৪-৫টি হিমাগারের আলু, রিকাবিবাজারের বিভিন্ন আড়তের চাল, মিরকাদিম ও কাঠপট্টির কাঠসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন যানবাহনে ও পায়ে হেঁটে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এখন কোনো বড় এবং ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মুক্তারপুর থেকে রিকাবীবাজার যেতে বিকল্প পথে ডিঙ্গাভাঙা দিয়ে এক কিলোমিটারেরও বেশি ঘুরে যেতে হয়। সেখানে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না।
মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির সংস্কারে ৭০০ মিটার আরসিসি ঢালাই, ৬০০ মিটার বিটুমিনের ঢালাই, গাইড ওয়াল, ব্লক স্থাপনসহ একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষে মেসার্স আবিদ মনসুর নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত অর্ধেকের মতো কাজ শেষ হয়েছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের মাঝামাঝি সেতু থেকে ফিরিঙ্গিবাজার পর্যন্ত ৩০০ মিটার অংশ ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে অর্ধেকের বেশি বিলীন হয়ে গেছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে ‘সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিষিদ্ধ’ লেখা একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোটখাটো বিভিন্ন যানবাহন। ভাঙন ঠেকাতে বাঁশ পুঁতে রাখা হয়েছে।
বালু ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, ‘সড়কের এমন অবস্থার জন্য ঠিকাদার দায়ী। কাজ নিয়ে মাসের পর মাস ফেলে রাখলে এমন অবস্থা তো হবেই। পানি কমার পরেও সুযোগ ছিল কাজটি করার, কিন্তু ঠিকাদার করেনি। কিছুদিন আগে টানা বর্ষণে পানি নামার সময় সড়কটির মাটি নদীতে চলে যায়।’
রামগোপালপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল আহম্মেদ বলেন, ‘সড়ক দিয়ে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহন ছাড়া কোনো যানবাহনই চলাচল করতে পারে না। অবস্থা এমন হয়েছে পায়ে হেঁটে যেতেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনদের।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ফিরোজ আলম বলেন, ‘কাজ শুরুর পরে বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারছি না। ভাঙা অংশে বাঁশ ও বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। এটাও প্রকল্পের খরচের বাইরে। লোকসান হলেও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
মুন্সীগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোনায়েম সরকার বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে, তাই সড়ক নির্মাণে ভর্তুকি তাদেরকেই দিতে হবে। ইতোমধ্যে এই কথা জানিয়ে দিয়েছি। তারা সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছে।’