× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চকরিয়ায় সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ‘যুবলীগ নেতা’

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ২২:০৪ পিএম

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ০০:০৭ এএম

চকরিয়ায় সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ‘যুবলীগ নেতা’

কক্সবাজারের চকরিয়ার লামায় সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে যাকে দেখা গেছে তার নাম-পরিচয় সামনে এসেছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়রা বলছেন, প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ওই ব্যক্তির নাম বেলাল উদ্দিন। তিনি ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। গুলি করার সময় তার পেছনে কালো পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তির নাম লায়ন আলমগীর। তিনি চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতই পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ওই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলছে, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

কক্সবাজার থেকে প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার নুপা আলম বলেন, ‘প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই স্থানীয়রা তার সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানান, লাল হেলমেট পরা অস্ত্র হাতে থাকা ওই ব্যক্তি যুবলীগের নেতা। তার নাম বেলাল উদ্দিন।‘

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় নিউজটি অনলাইনে প্রকাশিত হলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করেন। এই শেয়ার পোস্টের নিচে হেলমেট পরা ওই ব্যক্তিকে বেলাল উদ্দিন বলে শনাক্ত করেন চকরিয়া পৌর এলাকার আজম উল্লাহ।

এ বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম দাবি করেন, হেলমেট পরা ওই ব্যক্তি দেখতে বেলাল উদ্দিনের মতো মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি বেলাল না। অন্য কেউ হতে পারেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কক্সবাজারের চকরিয়ার লামায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু এবং ছয় পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন ১৩ জন। সংঘর্ষের সময় হেলমেট পরিহিত কয়েকজনকে ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে।

সংঘর্ষে নিহত চকরিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের আবুল ফজলের ছেলে মোহাম্মদ ফোরকানকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে জামায়াত।

জামায়াতের কক্সবাজার শহরের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুকের দাবি, চকরিয়ায় গায়েবানা জানাজা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সম্পন্ন হয়। যেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে চকরিয়া পৌরসভায় বায়তুশ শরীফ রোডের মাথায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন প্রকাশ্যে গুলি করে। এতে জামায়াত কর্মী ফোরকান নিহত হন। আহত হন অনেকেই। এ সময় অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

তবে নিহত মোহাম্মদ ফোরকান কোনোভাবেই জামায়াত কর্মী নন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম।

তিনি জানান, বুধবার আড়াইটার সময় মোহাম্মদ ফোরকানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওখানে তার বড় ভাই বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যে তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ফোরকান কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাদের পরিবার ও স্বজনরা নৌকায় ভোট দেয়।

তিনি বলেন, ’জানাজায় আমিসহ অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এত কথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু জানাজায় জামায়াত-বিএনপির কোনো নেতাকর্মী তো ছিলেন না। তারা শুধু শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে এসব করছে। এর নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন জড়িত। ঘটনায় অস্ত্র হাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে।’

তবে জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুকের দাবি, চকরিয়ার সংঘর্ষে হেলমেট পরে, অস্ত্র, লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেওয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়ন আলমগীর।

তিনি বলেন, ’লায়ন আলমগীর ওই আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আলমগীরের নেতৃত্বেই গুলি করা হয়েছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে লায়ন আলমগীরের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এমপি জাফর আলম বলেন, ’জামায়াত মিথ্যাচার করছে। কোনো কারণ ছাড়া পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। শোক দিবসের কর্মসূচি ও বন্যাকবলিতদের ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থায় ছিলেন সবাই। পুলিশের ওপর হামলা হচ্ছে জেনেই আমিসহ নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, পুলিশ কোনোভাবেই গুলি করেনি। বরং পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত তিনিসহ পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তি কারা, তা-ও তদন্ত করে বের করা হবে। পুলিশের পক্ষে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলামও বলেছেন, চকরিয়ার ঘটনায় পুলিশ গুলি করেনি। কারা গুলি করেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ’সংঘর্ষের ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে কি না, তদন্ত করা হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে নিজেরাই এমন ঘটনা ঘটানোর বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

এদিকে পেকুয়ায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ওপর হামলায় বারবাকিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা বদিউল আলম জিহাদি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার।

তিনি বলেন, ’এ ঘটনায় আমিসহ পুলিশের ১৫ সদস্য আহত হয়েছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা