চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ২২:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংস্থাগুলোর মাঝে সমন্বয় চাইলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে চট্টগ্রামের স্বার্থে একযোগে কাজ করতে হবে।
সোমবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে শহরের টাইগারপাসে নগর ভবনে সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে আন্তঃদপ্তর সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের মেয়র এসব কথা বলেন।
চসিক মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি সংস্থা ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এবার রেকর্ড বৃষ্টি হওয়ায় এবং প্রকল্পগুলো শেষ না হওয়ায় জলাবদ্ধতায় নগরবাসী কষ্ট পেয়েছেন। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৭ মিটার পলিথিনের স্তর তৈরি হয়েছে। তাই নদী বৃষ্টির পানি ধারণ করতে পারছে না। এমনকি বিদেশি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও এই নদী খনন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাল ও নালায় মানুষ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে। এতে খাল-নালা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যেতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
মেয়র আরও বলেন, এক সময় নগরীতে ৭২টি খাল ছিল, যা কমে ৫৭টি দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে অনেকগুলো আবার প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখলে করে রেখেছে। এছাড়াও এক সময় নগরীতে প্রচুর প্রাকৃতিক জলাশয় ছিল। কিন্তু সেগুলো মানুষ ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছে। তাহলে বৃষ্টির পানি কোথায় গিয়ে জমা হবে? তাছাড়া চট্টগ্রামের বেশির ভাগ পাহাড় বালুর হওয়ায় মানুষ যখন পাহাড় কাটে, বৃষ্টির সময় পাহাড় থেকে বালু নেমে আসে এবং নর্দমায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরিবেশ অধিদপ্তর কঠোর ব্যবস্থা নিলে পাহাড় কাটা বন্ধ হতো।
সভায় জলাবদ্ধতা বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর মোবারক আলী, শৈবাল দাস সুমন, আবদুল মান্নান এবং মো. এসরারুল হক।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মু. আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হোসেন খান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মো. মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু রায়হান দোলন, পুলিশের এডিশনাল কমিশনার এম এ মাসুদ, সিডিএ এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, সিডিএ এর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মো. শাহ আলী, চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদ, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মুনিরুল হুদা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ, কর্ণফুলী সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক রাজীব দাশ প্রমুখ।