মো. আকাশ, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ১০:৪২ এএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক। প্রবা ফটো
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে ডুবছে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য তৈরি করা শতকোটি টাকার লেকপাড়। অথচ কোনো নজর নেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের।
ঢাকার কাছের শিল্প-বাণিজ্যিক নগর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা। এতদিন সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর শীতলক্ষ্যা নদীঘেঁষা পৌনে তিন কিলোমিটার ওয়াকওয়ে ছাড়া ছিল না কোনো বিনোদনকেন্দ্র। লেকের কাজ শুরুর পর থেকে এখানকার বাসিন্দাদের বিনোদনের খোরাক মেটাচ্ছিল ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ লেক। বিকাল হলেই ভিড় করতেন শত শত দর্শনার্থী। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে লেকটিতে ঢল নামতে দেখা যেত দর্শনার্থীদের।
অথচ গতকাল শনিবার বিকালে ডিএনডি লেকপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিনোদনের খোরাক মেটানো ডিএনডি লেকপাড়ে বসার ভাসমান মঞ্চগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জনশূন্য হয়ে আছে লেকপাড়ের অংশটি। আরও লক্ষ করা গেছে, লেকপাড়ের একটি মঞ্চের সামনে ময়লার স্তূপ পানিতে ভাসছে। এদিকে শতকোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা ডিএনডি লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হলেও তার দিকে খেয়াল নেই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের।
লেকপাড়সংলগ্ন মজিববাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ বলেন, প্রতিদিন বিকালে এসে এখানে বসে সময় কাটাই। লেকপাড়টি হওয়ায় উপকার হয়েছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বসতে পারছি না। সিটি করপোরেশন পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিলে ভালো হতো।
সিদ্ধিরগঞ্জ পুলের লেকপাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রহমান বলেন, প্রায় সময় অফিস শেষ করে অথবা রাতে বন্ধুদের নিয়ে এখানে বসে আড্ডা দিই। নির্মল বাতাসের জন্য এখানে আড্ডা দিতে ভালো লাগে। আজও এসেছিলাম বসার জন্য, তবে এসে দেখি বসার মতো স্থান নেই, মঞ্চ ডুবে আছে।
পানি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেনÑ জানতে চাইলে ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টি হওয়াতে পানি বেড়ে গিয়েছে। তাই মঞ্চগুলো তলিয়ে আছে। সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।
৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান খান রিপন জানান, বৃষ্টির পানিতে এমন হয়েছে, আসলে এখন কোনো করণীয় নেই। কারণ ডিএনডির লেকের পানির মাঝখানে একটি নালা রয়েছে। সেটি ঠিক করা হলে পানিটা সমান হবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তারা বলেছেন, আপাতত নয়, কারণ এখন নালার কাজ ধরলে পানি বেড়ে তাদের প্রজেক্টের কাজের সমস্যা হবে।