নুপা আলম, কক্সবাজার
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৪২ এএম
কক্সবাজারে বন্যাদুর্গত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও ডুবে আছে চারটি ইউনিয়ন। প্রবা ফটো
কক্সবাজারে বন্যাকবলিত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও পানিতে ডুবে আছে চারটি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নসংলগ্ন বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ রাখার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রভাবশালী একটি চক্রের চিংড়ির ঘের রক্ষায় এসব স্লুইসগেট কোনোভাবেই খোলা যাচ্ছে না। স্লুইসগেট বন্ধ রাখায় নামতে পারছে না এসব এলাকার পানি। এসব স্লুইসগেটে ঘেরমালিকদের নিয়োজিত পাহারাদারদের সঙ্গে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এতে এসব এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই স্লুইসগেট বন্ধ রাখার বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি নন। এমনকি প্রভাবশালী চক্রের নামও প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ জানান, চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি ইউনিয়নের পানি নেমে গেছে। এখনও বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নে পানি রয়েছে। মূলত উপকূলের বেড়িবাঁধের পাঁচটি স্লুইসগেট বন্ধ থাকার কারণে পানি নামতে পারছে না। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে বদরখালী ও ঢেমুশিয়ায় দুটি গেট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র দুই ঘণ্টা পর গেট দুটি ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন স্লুইসগেটে সশস্ত্র পাহারাদার নিয়োগ করেছে প্রভাবশালী চিংড়িঘের সিন্ডিকেট।
এই ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সরকারি এসব জলমহাল ইজারার মাধ্যমে নিয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি। এসব জলমহালে তৈরি করা হয়েছে চিংড়িঘের। যেখানে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। মূলত এই সিন্ডিকেট চিংড়িঘেরের মাছ রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী। তিনি জানান, স্লুইসগেট বন্ধ থাকার কারণে কিছু এলাকার পানি এখনও রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ইউএনওসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কয়েকটি স্লুইসগেট খুলে দিয়েছিল। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর তা বন্ধ করা হয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি।
চকরিয়ার ইউএনও জেপি দেওয়ান জানান, খুলে দেওয়া স্লুইসগেট আবারও বন্ধ করার খবর তিনিও পেয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে একই কারণে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের অর্ধেক এলাকায় এখনও পানি রয়েছে। সেখানেও চিংড়িঘেরের জন্য স্লুইসগেট বন্ধ রাখাকে দায়ী করছে স্থানীয়রা।
পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা জানান, স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পাউবোর। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যা খুলতে হয় তা অবশ্যই খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ জানান, প্রতিটি এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। তারাই এর ব্যবস্থাপনা করবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, শুধু স্লুইসগেট না, প্রয়োজনে বেড়িবাঁধও কাটা হবে। কেউ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।