সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:০৭ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:২০ পিএম
স্মৃতি ইসলাম হাওয়া। প্রবা ফটো
হেনস্থার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্মৃতি ইসলাম হাওয়া নামে এক নারী। বুধবার (৯ আগস্ট) তাড়াশ থানা আমলি আদালতে এ মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিচারক পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদী স্মৃতি ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার সাতকুর্শী গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ে। তার বিরুদ্ধে নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় একটি ইয়াবা পাচারের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, স্মৃতি ইসলাম ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরার মোটরবাইকের একটি শোরুম থেকে ৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় একটি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল কেনেন। এজন্য বিআরটিএ অফিস থেকে ১৭ জুলাই মোটরসাইকেলটির যাবতীয় ট্যাক্স পরিশোধ করে রেজিট্রেশন করেন। মামলার বাদী বিআরটিএ অফিস থেকে ১ জানুয়ারি ২০২২ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ তারিখ পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য অপেশাদার মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করেন। যার লাইসেন্স নং- ডিকে ৩০৫১৮৩১০০সিএ ০০১।
মামলা সূত্রে জানা যায়, স্মৃতি ইসলাম ২৫ জুলাই ঘটনার দিন তাড়াশ উপজেলা সদরের সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন মিলনের বাড়ির গ্যারেজে তার মোটরসাইকেলটি রেখে তাড়াশ থানার মোড়ে এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন করতে যান। তখন তাকে রাস্তা রোধ করে তাড়াশ থানার ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করে বলেন, আপনার মোটরসাইকেল কোথায়? আপনার মোটরসাইকেলের নিকট নিয়ে যান। বাদী তখন ওসিকে গ্যারেজে নিয়ে যান। এ সময় বাদীর মোটরসাইকেল তল্লাশি করে পুলিশ মোটরসাইকেলের যাবতীয় কাগজপত্র দেখতে চান। তখন বাদী তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটির রেজিট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যাবতীয় মূল কাগজ প্রদর্শন করেন। এ সময় ওসি কাগজপত্র দেখে বাদীর নিকট মোটরসাইকেলটির চাবি দিতে বলেন। চাবি নিয়ে পুলিশ সদস্যকে ওসি মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যেতে বলেন। স্মৃতি ইসলাম তাতে বাধা দিলে ওসি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি জব্দ করার স্লিপ বা ডকুমেন্ট চাইলে ওসি হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট এলেও মোটরসাইকেল ছাড়ব না। ভুলেও আপনি আমার থানায় আসবেন না। আপনাকে যেন আমি কোনো দিন আর তাড়াশে না দেখি।
অপরদিকে তাড়াশ থানার পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২৫ জুলাই তাড়াশ পৌর এলাকার বারোয়ারি বটতলায় অবৈধ যানবাহন আটকের জন্য এসআই দেবব্রতর নেতৃত্বে পুলিশ চেকপোস্ট বসালে স্মৃতি ইসলাম নামে ওই নারী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তিনি তার মোটরসাইকেলের বৈধ কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি। এরপর তিনি বিভিন্ন গুরুপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে বলেন, সারা দেশে আমার গাড়ির কোনো কাগজপত্র লাগে না। এমনকি এসআই দেবব্রত বিশ্বাসের চাকুরি খাওয়ারও হুমকিও দেন। এ খবর শোনার পরপরই ওসি শহিদুল ইসলাম নারী কনস্টেবল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং ওই নারী কনস্টেবলকে দিয়ে পার্শ্ববর্তী সাবেক এমপির বাড়িতে নিয়ে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করেন। সেখানে অবৈধ কিছু না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, ডাইভিং লাইসেন্স এমনকি ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকায় গাড়িটি আটক করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী স্মৃতি ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও বন্ধ থাকায় তার মতামত নেওয়া যায়নি।
তাড়াশ থানার ওসি বলেন, ’আইন মেনেই মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে এবং তাকে যথারীতি কেস স্লিপ দেওয়া হয়েছে। আদালতেও কাগজপত্র পাঠনো হয়েছে। তার সঙ্গে পুলিশের পেশাদারত্বে যেটুকু আচরণ সেটুকুই সর্বসাধারণের সামনে করা হয়েছে। বরং মামলার বাদীই পুলিশের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন।’