× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ ঘর বিক্রি

সরোয়ার জাহান সোহাগ, ডিমলা (নীলফামারী)

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৪৩ পিএম

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৮ পিএম

ঘর কেনার দলিল হাতে মহোছেনা বেগম। প্রবা ফটো

ঘর কেনার দলিল হাতে মহোছেনা বেগম। প্রবা ফটো

নীলফামারীর ডিমলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কেল্লাপাড়া গ্রামে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ৫০টি ঘরের মধ্যে ১০টি বিক্রি করে দিয়েছেন উপকারভোগীরা। মাত্র ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় রীতিমতো চুক্তি করে এসব ঘর বিক্রি করে দেন তারা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনরা বরাদ্দ না পাওয়ায় এসব ঘর বিক্রির ঘটনা ঘটছে। জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জমি, পাকা ঘর ও গাড়ি আছে, এমন ব্যক্তিরাও পেয়েছেন ভূমিহীনদের ঘর। ফলে তারা এসব ঘরে না থেকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের ২৬ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছে সিদ্দিকুর রহমান ও মমেনা খাতুন দম্পতি। চুক্তিপত্রের মাধ্যমে এ ঘর ৫০ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন সোকজান বেগম। ৩২ নম্বর ঘর বরাদ্দ হয়েছে রমিছা বেগমের নামে। সরকারি বিভিন্ন নথিতে তার নাম রয়েছে। অথচ ঘরটিতে এখন বাস করছে আফাজ উদ্দিন ও আকতারা দম্পতি, বর্তমানে ঘরে বসবাস করা আকতারা বেগম জানান, চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ৯৫ হাজার টাকায় তিনি রমিছা বেগমের কাছ থেকে ঘর কিনেছেন।

২৫ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছে সুফিয়া খাতুন ও নুর ইসলাম দম্পতি। তাদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় ঘরটি কিনে বসবাস করছে শাহ আলম ও তার পরিবার। ৫০ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন সুরুজ্জামান আলী ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন। তাদের কাছে এ ঘর ৫৭ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছে মহোছেনা বেগম ও মমিনুর রহমান দম্পতি। ৪৪ নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন লিটন ইসলাম। তার কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় ঘরটি কিনে বসবাস করছে জাবিতন বেগম ও তার পরিবার। একইভাবে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১২, ৩০, ৩৩, ৩৭ ও ৩৯ নম্বর ঘর টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন উপকারভোগীরা। 

এসব ঘরে বসবাসকারী ব্যক্তিরা টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলেন, তাদের কোনো বাড়িঘর ও জমিজমা নেই। আবেদন করেও তারা সরকারের ঘর বরাদ্দ পাননি। তাই নিরুপায় হয়ে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘর কিনে বসবাস করছেন।

২৬ নম্বর ঘর কিনে বসবাস করা সোকজান বেগম জানান, তার ঘরবাড়ি নেই, জমিও নেই। ভিক্ষা করে খেয়ে-না খেয়ে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে তিনি সিদ্দিকুরের কাছ থেকে এই ঘর কিনেছেন। সিদ্দিক ঘরটি তার নামে চুক্তিপত্র করে দিয়েছেন। 

৫০ নম্বর ঘর কিনেছেন মমিনুর রহমান। তিনি বলেন, বরাদ্দের জন্য আবেদন করেও ঘর না পেয়ে বাধ্য হয়ে কিনেছি। কারণ পরিবার নিয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই আমার। প্রথমে ঘর বাবদ ৫৭ হাজার টাকা ও পরে টিউবওয়েল বাবদ আরও ৩ হাজার টাকা দিয়েছি মালিক সুরুজমানকে।

এ ছাড়া টাকা দিয়ে ঘর কেনার কথা স্বীকার করেছেন শাহ আলম, আকতারা বেগম, জাবিতন ও ইয়াসমিন। তারা বলেন, টাকা দিয়ে ঘর কিনে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু বরাদ্দপ্রাপ্তরা ঘর বিক্রি করে চলে গেলেও সরকারি সকল সুবিধা ও প্রশিক্ষণ এখনও তারাই পাচ্ছে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারের এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

২৫ নম্বর ঘরের বরাদ্দ পাওয়া নুর ইসলাম ঘর বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, শাহ আলম ভূমিহীন। আমার যেহেতু বাড়িঘর আছে, তাই ৪০ হাজার টাকায় তার কাছে ঘরটি বিক্রি করেছি।

আশ্রয়ণের বাড়ি বিক্রি করে আরেক উপকারভোগী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিক্রি করিনি, তবে ওই বাড়িতে থাকি না তাই অন্যকে থাকতে দিয়েছি। লিখিত চুক্তিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

জানতে চাইলে তৎকালীন ঝুনাগাছ চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, সে সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্যরা তালিকা করেছিল। তাদের দেওয়া তালিকা আমি শুধু প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি। তারাই যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করেছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। ঘর বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ঘর বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা