বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৬ পিএম
বরগুনার আমতলী একে পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন জলমহালের পানি নষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠেছে। মরা মাছের দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছে আশপাশে বাস করা শত-শত পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একে পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন ৩০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত চাওড়া বদ্ধ মৎস্য জলমহাল নামে পরিচিত জলমহালটির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে আমতলী পৌরসভার ২, ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অংশ পড়েছে। এর উত্তর পাশে আমতলী পৌরসভা কার্যালয় অবস্থিত। এছাড়া তিন দিকে শত-শত পরিবার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করেন এবং পরিবারগুলো গোসলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব কাজে ওই জলমহালের পানি ব্যবহার করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ওই জলমহালের পানিতে গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় পানি নষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠেছে এবং পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে একদিকে পাশের সড়ক দিয়ে দুর্গন্ধে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে পাশে বাস করা শত-শত পরিবারও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জলমহালের চাষকৃত বিভিন্ন প্রজাতির শত-শত মাছ মরে জলমহলের মধ্যে পানিতে ভাসছে। দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া যাচ্ছে না।
জলমহালের পূর্বপাড়ের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গোসল তো দূরের কথা ওই জলমহালের পানি এখন কোনো কাজেই ব্যবহার করতে পারছি না। মরা মাছের দুর্গন্ধে বাসায় পর্যন্ত থাকতে পারছিনা।’
পশ্চিমপাড়ের বাসিন্দা বিরাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে ওই জলমহালের মাছ মরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ কারণে এর পানি আমরা কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারছিনা।’
ইজারাদার মিরন খান বলেন, ‘জলমহালের তিন পাড়ে বাস পরিবারগুলো তাদের সব বর্জ্য জলমহালের ভেতরে ফেলছে। এছাড়া পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের একাংশের অনেক ড্রেনের ময়লা পানি ও বর্জ্য জলমহালের পানিতে ফেলা হচ্ছে। এ থেকে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে মাছগুলো মারা যাচ্ছে। গত দুই মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। জলমহালের পানি নিষ্কাশনে উত্তর পাশে পৌরসভা কার্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি ড্রেন পায়রা নদীর শাখা নদীর সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ড্রেনটির সম্মুখ ভাগ উচু থাকায় নদী থেকে পানি ঠিকমত আসা যাওয়া করতে পারেনা। নদীর পানি প্রবেশ করতে পারলে জলমহালের পানি ভাল হয়ে মাছ মরা বন্ধ হতো’
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘ওই জলমহালে এ্যামোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় মাছগুলো মারা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখে মাছ চাষিকে জরুরি ভিত্তিতে মাছ রক্ষার জন্য পরামর্শ দেওয়া হবে।’