× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আশ্রয়ণের ঘরে প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিলেন নোয়াখালীর জাহেরা

নোয়াখালী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৮:২০ পিএম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৯:০৮ পিএম

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দাওয়াত দেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জাহেরা বেগম।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দাওয়াত দেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জাহেরা বেগম।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের কাচিহাটা গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পাওয়া নিজ ঘরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দাওয়াত দিয়েছেন জাহেরা বেগম। বুধবার (৯ আগস্ট) আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেন জাহেরা। এই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

নোয়াখালীতে আশ্রয়ণের ঘর পাওয়া জাহেরা বেগম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমরা ঝড় বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকিয়ে অনেক কষ্ট করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমাদের কোনো সমাজ ছিল না। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য কত কান্না করেছি। কেউ মূল্য দেয়নি। আপনি আমাদের ঘর দিয়েছেন। আমরা সেই ঘরের পাশে শাক সবজি চাষ করব। আপনাকে দাওয়াত দিলাম, একদিন আপনি আমাদের এখানে আসবেন।’

জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যদি সময় পাই সুযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করব।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে জাহেরা বেগম আরও বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। দীর্ঘদিন তিন ছেলে ও মেয়ে নিয়ে খালপাড়ে থাকতাম। সন্তানদের বাবার কোনো আয় ছিল না। তাদের বাবাও আমি ছিলাম, মাও আমি ছিলাম। খালের পানি ব্যবহার করতাম। খালের পানি খেতাম। অনেক কষ্টে ছিলাম। এখন খুব সুন্দর একটা ঘর পেয়েছি। খাওয়ার জন্য ভালো পানি পেয়েছি। আমরা আপনার মতো প্রধানমন্ত্রী বারবার চাই।’

নোয়াখালী থেকে ঘর অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আরেক সুবিধাপ্রাপ্ত ভ্যানচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘স্ত্রী ও চার মেয়ে নিয়ে তেরপাল টানিয়ে খালপাড়ে বসবাস করেছি। রাতে বৃষ্টি হলে বাটি দিয়ে পানি সরিয়ে থাকতে হতো। চার মেয়ে আমাকে বলতো বাবা আমাদের কি কখনও ঘর হবে না? আমি বলতাম আল্লাহ দিলে কোনোদিন হবে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। একটা ঘর করতে পারিনি। আপনার দয়ায় একটা ঘর পেয়েছি। এখন আর কষ্ট করতে হবে না। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক। আপনার জন্য দোয়া করি।’

এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয়ণের বাসিন্দা জাহেরা বেগম ভিডিও কনফারেন্সে বেগমগঞ্জের আশ্রয়ণের ঘরে দাওয়াত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সময় সুযোগ পেলে আসবেন বলে জানিয়েছেন।’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ি, চাটখিল ও সেনবাগ উপজলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী। বুধবার এসব উপজেলার গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ৪১৮টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিসি দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পুরো আশ্রয়ণে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রতিটি ঘর সাজিয়েছেন বাসিন্দারা। তাদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমরা মোট ৩ হাজার ৫৭২টি গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করেছি। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে খুশি – এমন একজন মো. হারুন। তিনি বলেন, ‘এ ঘরটা আমাদের স্বপ্নের মতো। কত আনন্দ লাগছ তা বলে বুঝাতে পারব না। আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন উনাকে সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় রাখেন। তিনি গরিব মানুষের প্রধানমন্ত্রী। আর কেউ আমাদের ঘর দেয়নি। একমাত্র তিনিই আমাদের এত সুন্দর ঘর দিয়েছেন।’

ভার্চুয়ালি নোয়াখালী থেকে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরণ, নোখাখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খাইরুল আনম চৌধুরী সেলিম, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা