× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘর পেয়ে আনন্দে কাঁদলেন ভূমিহীনরা

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৩৩ পিএম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ২১:৩০ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের দলিল তুলে দেওয়া হচ্ছে ভূমিহীনদের হাতে। প্রবা ফটো

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের দলিল তুলে দেওয়া হচ্ছে ভূমিহীনদের হাতে। প্রবা ফটো

কুড়িগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহারের ঘর পেয়ে গৃহহীনরা খুশির জোয়ারে ভাসছেন, কেউবা আবার আনন্দে কেঁদে ফেলেছেন। আগের বঞ্চনার কথাও বার বার মনে করছেন তারা। জেলার ৫০৫টি হতদরিদ্র গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার এবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়েছে। এর সঙ্গে সুফলভোগীরা পাচ্ছেন বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা। পাঁকা ঘর ও জমির দলিল পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। 

বুধবার (৯ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত জেলা পর্যায়ে ঘর উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে ঘরের চাবি ও জমির দলিল তুলে দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল আরীফ। এ সময় বক্তব্য রাখেন-পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরদী বাপ্পি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরে তাসনিম প্রমূখ।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে চতুর্থ পর্যায়ে (দ্বিতীয়-ধাপ) কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় ৫০৫টি হত দরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়। এর মধ্যে -কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ৩টি, নাগেশ্বরী উপজেলায় ৪২টি, ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ১৪টি,ফুলবাড়ী উপজেলায় ৫টি, রাজারহাট উপজেলায় ৩০৪টি, উলিপুর উপজেলায় ৫৯টি, চিলমারী উপজেলায় ৩৬টি, রৌমারী উপজেলায় ১৭টি ও রাজিবপুর উপজেলায় ১৭টি করে ঘর ও জমির দলিলসহ হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে চিলমারী উপজেলায় রয়েছে ৩০টি হরিজন সম্প্রদায় ও রাজারহাট উপজেলার রয়েছে ১৯টি ঢুলি পরিবার।  

জেলা প্রশাসনের তথ্যনুযায়ী জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৪ হাজার ৭০২ জন। ইতোমধ্যেই আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে অধীনে চতুর্থ পর্যায়ে মোট ৪ হাজার ৫৫৩টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে আর মাত্র ১৪৭টি পরিবার। 

চিলমারী উপজেলার সবুজপাড়া আশ্রয়নের (হরিজন পল্লীর) ইন্দ্রজিৎ লাল আনন্দে কান্না করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আগে জমি-ঘর কোনোটাই ছিল না আমার। ভগবানের কৃপায় ও প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় এখন পাঁকা ঘর পেলাম। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ভগবান যেনে তাক দীর্ঘদিন বেঁচায়ে রাখেন।’

একই গ্রামের মধুমালা বলেন, ‘আমাদের তো কোনো ঠিকানা ছিল না, ভাসমান মানুষ আমরা। কল্পনাও করি নাই পাকা ঘরে থাকবো এবং নিজের জমি হবে।  প্রধানমন্ত্রী ঘর ও জমি দুটোই দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের জহির উদ্দিন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘তিস্তা নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে এতদিন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ঝুঁপড়ি ঘরে কোনো রকমে দিন কাটছিল। এবার নিজের নামে জমিসহ ঘর পেলাম। প্রধানমন্ত্রীকে এজন্য অন্তর থেকে দোয়া করছি। আল্লাহ তাকে যুগ যুগ বেঁচে রাখুক।’

এ বিষয়ে কথা হলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কুড়িগ্রাম একটি নদী ভাঙন কবলিত জেলা। প্রতিনিয়ত এখানে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। জেলায় ভিটেমাটি হারা নিঃস্ব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৪ হাজার ৭০২ জন। এরমধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে চতুর্থ পর্যায়ে মোট ৪ হাজার ৫৫৩টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হয়। আমরা আশা করছি জেলার ৯টি উপজেলার মধ্য ভূরুঙ্গামারী এবং ফুলবাড়ীকে খুব শীঘ্রই ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করতে পারব। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা