বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২ ২০:১৪ পিএম
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি। ছবি : প্রবা
প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে বগুড়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জাকির হোসেন খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে চাকুসহ গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করে শনিবার (৮ অক্টোবর) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী।
শাজাহানপুর উপজেলায় শুক্রবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় খুন হন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাথিয়াখালী গ্রামের জাকির হোসেন। তিনি শাকপালা ক্যান্টনমেন্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। ২০১৪ সালে ল্যান্স করপোরাল হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে তিনি অবসরে যান।
পুলিশ সুপার আলী হায়দার জানান, একটি প্রতারক চক্র নারী সদস্যদের মাধ্যমে জাকিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। সেই সূত্র ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাকিরকে ওই চক্রের নারী সদস্য আঁখি (ছদ্মনাম) ও সালমা (ছদ্মনাম) কৈগাড়ী জবান স্কুলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। এরপর তারা মুঠোফোনের মাধ্যমে কৌশলে চক্রের অন্য সদস্যদের রুমের ভেতরে আসতে বলেন। তারা রুমে এসে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে জাকিরকে হুমকি দেন। সে সময় জাকিরের কাছ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা ও পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার টাকা নেয় তারা। পরে তারা জাকিরকে ফুলতলা মোড়ে নিয়ে আসে। তখন জাকির পালানোর চেষ্টা করলে আশরাফুল পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় জাকিরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাকিরের স্ত্রী মমতাজ বেগম অজ্ঞাতদের আসামি করে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা ও শাজাহানপুর থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই আসামি আশা ও কমলকে চাকুসহ গ্রেপ্তার করে। আশার বিরুদ্ধে এর আগেও একটা অস্ত্র মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের সঙ্গে এ চক্রে আটজন সদস্য রয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারী সদস্যদের দিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিদের টার্গেট করে সখ্য গড়ে তুলে বাসাবাড়িতে ডেকে নিতেন। এরপর ওই ব্যক্তির সঙ্গে নারী সদস্যের ঘনিষ্ঠ হওয়ার আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রবা/রাই/এমআই