× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুই বছরেও নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে পারেননি মহিউদ্দিন

ভোলা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ২১:০৮ পিএম

ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দিন। প্রবা ফটো

ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দিন। প্রবা ফটো

৩ বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হন মো. মহিউদ্দিন। অভাব-অনটনের সংসারে ছেলেকে সুস্থ করতে নানাভাবে চেষ্টা করেন বাবা। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হেরে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় মহিউদ্দিনকে। দুই পা অচল হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যান। সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে আবেদন করেন মহিউদ্দিন। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ভাতা পেতেও শুরু করেন তিনি।

বিপত্তি ঘটে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। বন্ধ হয়ে যায় মহিউদ্দিনের ভাতা। কারণ জানতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে জানানো হয় তিনি মারা গেছেন! এরপর থেকে জীবিত হিসেবে প্রমাণ করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সমাজসেবা কার্যালয়ে বহুবার ধর্ণা দিয়েছেন। কিন্তু কোন সমাধান পাননি। তিনি আর জীবিত হননি! 

ঘটনার শিকার ৩৭ বছর বয়সের যুবক মহিউদ্দিনের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহনী এলাকায়। ওই এলাকার মাতাউল্যাহ চৌধুরী বাড়ির আফতার আলীর ছেলে সে। 

মহিউদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি প্রতিবন্ধী। ২০০৭ সাল থেকে ভাতা পেতে শুরু করি। হঠাৎকরে ২০২১ সালের অক্টোর থেকে ভাতার টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে জানতে পারি, আমি মারা গেছি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যজনের নাম দেওয়া হয়েছে। আমি যে ‘মারা যাইনি, জীবিত আছি’ এটা প্রমাণ করতে বহুবার চেয়ারম্যান-মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। অনেকবার গিয়েছি সমাজসেবা অফিসেও। আজও নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ভাতার টাকায় খেয়ে-পরে দিন পার করতাম। এখন ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছি। তাই দ্রুত ভাতা চালুর দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া আমাকে যারা মৃত বানিয়ে ভাতা বন্ধ করেছে তাদের বিচার চাই। আমার সঙ্গে জঘন্যতম প্রতারণা করা হয়েছে।’

মহিউদ্দিনের বাবা আফতার আলী বলেন, ‘তিন বছর বয়সে সে (মহিউদ্দিন) টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর সাধ্যমতো চিকিৎসা করিয়েছি। তবে ওই জ্বরে তার দুই পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর হাঁটা-চলা করতে পারছে না। তাই প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য তৎকালীন চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু বছর খানেক আগে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহিউদ্দিন নাকি মারা গেছে।’

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে মহিউদ্দিনকে মৃত জানিয়ে অন্য একটি নাম প্রতিস্থাপনের জন্য দেওয়া হয়। তাই ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে তার প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। তার জায়গায় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ছানাউল্যাহ নামের এক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি ভাতা পাচ্ছেন।

জীবিত ব্যক্তির নাম মৃতের তালিকায় ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মহিউদ্দিনের নাম কীভাবে মৃত তালিকায় উঠেছে তা জানা নেই। কেউ হয়তো আমার স্বাক্ষর জাল করে এই অপকর্ম করেছে। ঘটনাটি জানার পর আমি নিজেই সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়েছি। তাদের বলেছি এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করে দিতে।’

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, ‘এখানে যোগদান করেছি মাত্র কয়েকমাস হলো। তাই এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারছি না। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা