খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৩৩ পিএম
নারী ফুটবলারদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। প্রবা ফটো
খুলনার বটিয়াঘাটায় নারী ফুটবলারদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে খুলনা নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে সম্মিলিত নারী অধিকার সুরক্ষা ফোরামের উদ্যোগে এ মানববন্ধন হয়।
সম্মিলিত নারী অধিকার সুরক্ষা ফোরামের সভানেত্রী অ্যাড. তাসলিমা খাতুন ছন্দার সভাপতিত্বে ও নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞের পরিচালনায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুজনের আহ্বায়ক কুদরত-ই খুদা, সাবেক ফুটবলার এসএম সোহরাব হোসেন, অশোক কুমার সাহা, সিপিবির এসএ রশীদ, মিজানুর রহমান বাবু, আব্দুল করিম, অধ্যাপক রমা রহমান, মেরিনা যুথি, মাসুদুর রহমান রঞ্জু, অধ্যাপক অজন্তা দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশের মেয়েরা যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলায় সুনাম অর্জন করছেন, তখন একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের ওপর হামলা করছে। এ হামলা নারী ফুটবলারদের ওপরই শুধু নয়, এটা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির উপর হামলা। দুর্বৃত্তরা শুধু হামলা করেই থেমে থাকেনি। দিচ্ছে এসিড নিক্ষেপের হুমকি। তাদের হুমকির কারণে খেলোয়াড়রা এখন প্রশিক্ষণে যেতে ভয় পাচ্ছে।
অপরাধীদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নারাী নেত্রীরা।
গত ২৭ জুলাই স্থানীয় তেঁতুলতলা সুপারকুইন ফুটবল একাডেমির নারী খেলোয়াড়রা মাঠে অনুশীলনের জন্য গেলে তাদের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের মা-বাবাকে দেখিয়ে গালিগালাজ করে দুর্বৃত্তরা। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় নূর আলম ও তার মেয়ে নুপুর খাতুন ফুটবলার সাদিয়কে বেধড়ক মারধর করে।
বিষয়টি সাদিয়ার মা রাবেয়া বেগম ক্লাবের কোচ মো. মোস্তাকুজ্জামানকে জানান। পরে টিমের খেলোয়াড়রা নূর আলমের বাড়িতে গিয়ে মারপিটের ঘটনা জানতে চাইলে নূর আলম, তার ছেলে আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন তাদের ওপর ফের দা-কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। এতে জেলা অনুর্ধ্ব-১৭ দলের অন্যতম নারী ফুটবলার মঙ্গলী বাগচীর মাথায় ফেটে যায়। এ ছাড়া জুই মণ্ডল, সাদিয়া নাসরিন, হাজেরা খাতুন জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হলেও হামলাকারীরা জামিন পেয়ে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতিসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে।