কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
নিজ হাতে গড়া বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত গাজী আলী আশরাফ
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুরের বাসিন্দা গাজী আলী আশরাফ। শখের বসে বাড়ির উঠোনজুড়ে করেছেন বাগান। সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ফুল-ফল সবজির জোগান দিলেও আলী আশরাফের বাগানটি যেন একখণ্ড পরীক্ষাকেন্দ্র বা গবেষণাগার।
আলী আশরাফ পেশাগত জীবনে কখনও শিক্ষকতা করেছেন, কখনও ছিলেন স্টুডিও ব্যবসায়ী। তবে, গাছের প্রতি সব সময়ই আলাদা টান ছিল। এজন্য গাছ সংগ্রহের পাশাপাশি তা দিয়ে করেছেন ‘এক্সপেরিমেন্ট’।
৭৬ বছর বয়সেও থেমে নেই আলী আশরাফ। বাড়ির উঠোন বাগানটিই তার সঙ্গী। পরিচর্চা ও নিরীক্ষা করেই সময় কাটে তার। তার বাগানে রয়েছে কালমেঘা, অ্যালোভেরা, কারিপাতা, আকন্দ, বাসক, পিপুল, করসল, সোলা কচুসহ নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ। একইভাবে উঠোন সেজেছে নানা প্রজাতির ফুলে। রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা প্রজাতির ফলও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-জামরুল, কালোজাম, ৩ জাতের লিচু, অন্তত ১২ জাতের আম, সৌদি আরবের আজোয়া খেজুর, তাল, ৩ জাতের কাঁঠাল, ৬ জাতের লেবু, কদবেল, নাশপতি, আপেল, আমড়া, সফেদা, আঙুর, ড্রাগন ও ফিলিপাইনের ব্লাক সুগারকেনসহ নানা জাতের ফল।

ডালচিনি, তেজপাতা, আদাসহ কয়েক প্রকার মসলাও রয়েছে তার বাগানে। সেই সঙ্গে বেগুন, পুঁইশাক, কলা, পেঁপে, ওল, লাউসহ নানা প্রজাতির মৌসুমি সবজি তো আছেই।
গাছ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টই তার প্রধান লক্ষ্য। ফলে এক গাছেই লতা, গোবিন্দভোগ ও কাঁচামিঠা আম চাষ করে সফল হয়েছেন, এবার চেষ্টা করছেন এক গাছে সাত প্রকার আম ফলানোর। বাগানের একটি গাছ থেকে আড়াই বছর যাবৎ বেগুনসংগ্রহ করছেন। এখন অপেক্ষা করছেন আরও কতদিন গাছটি থেকে বেগুন পাওয়া যায়! একটি গোলাপ গাছের বয়স ১২ বছর, লম্বায় ১২ ফুট, এখনও গাছটির ফুলে যেমন সৌন্দর্য বাড়ছে, তেমনি সুবাসিত ঘ্রাণে মন কাড়ছে সবার।
আলী আশরাফ নিজ বাড়ির উঠোনেই মৌ-বাক্স বসিয়েছেন দীর্ঘ ৪১ বছর আগে এবং তা থেকেই মেটে তার পরিবারের মধুর চাহিদা। একই সঙ্গে পরাগায়নেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে এসব মৌমাছি। তালের বীজ বপন করে ৪১ বছর পর তা থেকে ফল পেয়েছেন তিনি।
২০১২ সালে থাইল্যান্ড থেকে বীজ সংগ্রহ করে লাগিয়েছেন ক্যানসার প্রতিরোধক করসল বা টক আতা গাছ। নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হলে করসলের পাতার রস খেয়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন। এভাবেই গাছ নিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার যেন শেষ নেই।
গাছ নিয়ে কেন এক নিরীক্ষা- এ প্রসঙ্গে আলী আশরাফ বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই মৌখিকভাবে শুনে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমি এটা পছন্দ করি না। সেটা হাতে নিয়ে দেখতে চাই, জানতে চাই এবং মানুষকে জানাতে চাইÑ এ জন্যই মূলত গাছ নিয়ে এসব কাজ করা। বাড়ির জমি পতিত না রেখে সেখানে ঔষধি গাছ, কিছু সবজি, কয়েকটি ফল গাছের চারা, কিছু ফুল লাগাতে পারলে তো আর কিছু দরকার হয় না। আশেপাশের মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক কিছু নিতে আসে। কখনও করসল বা তুলসীর পাতাÑ যার যা লাগে। মানুষকে দিয়ে তৃপ্তি পাই।’