লোহাগাড়া (চট্রগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১৭ পিএম
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লোহাগাড়া চট্টগ্রাম। প্রবা ফটো
চট্রগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেকনিশিয়ানের অভাবে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। এতে প্রতিদিন শত শত রোগী বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাদের এক্স-রে করিয়ে আনতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যায় উন্নীত করা এ হাসপাতালে ২০১৮ সালের জুন মাসে একটি আধুনিক এক্স-রে যন্ত্র দেওয়া হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় যন্ত্রটি আর ব্যবহৃত হয়নি। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জন রোগীর এক্স-রের প্রয়োজন হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চট্রগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ার কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সেবা দিতে এখানেই নিয়ে আসা হয়। অনেক রোগীকে এক্স-রে করাতে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হয়। ফলে রোগীদের আর্থিক হয়রানীসহ নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
হাসপাতালে হাতের ব্যথায় সেবা নিতে আসা কলাউজান ইউনিয়নের ফাতেমা বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে এসেছি। আমার সব পরীক্ষাগুলো এখানে করানো হলেও এক্স-রে নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি।’ একই সমস্যার কথা জানালেন সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী।
পুটিবিলা ইউনিয়ন থেকে আসা আব্দুস সাত্তার নামের এক রোগী বলেন, ‘এক্স-রে করার জন্য হাসপাতাল থেকে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে বটতলী প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে যেতে হয়। অর্থের যেমন অপচয় হয়, তার চেয়ে বেশি রোগীরা কষ্ট পায়। ভোগান্তির যেন শেষ নেই।’
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইশতিয়াকুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এক্সরে মেশিন পরিচালনায় টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদটি পূরণের জন্য গত কয়েক বছর ধরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এরপরও কোনো লাভ হচ্ছে না। মেশিনটি চালু হলে এই উপজেলার সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে এক্সরে করাতে পারতেন।