খুলনায় নারী ফুটবলারদের ওপর হামলা
প্রবা প্রতিবেদক ও খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৩ ২২:৫৮ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩ ২২:৫৮ পিএম
মারধরের ঘটনার পর তেঁতুলতলার সুপার কুইন ফুটবল একাডেমির মেয়েরা মাঠে অনুশীলন করতে ভয় পাচ্ছে। মেয়েদের অনেকই অনুশীলন করতে আসছে না। বুধবার বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। ছবি : সংগৃহীত
খুলনার বটিয়াঘাটায় নারী ফুটবলারদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে ভয়ভীতিসহ হত্যার হুমকি দিয়েছে আসামিরা। গত মঙ্গলবার হুমকির ঘটনায় বাদী ফুটবলার সাদিয়া খাতুন বটিয়াঘাটা থানায় হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ ঘটনায় নারী ফুটবল টিমের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে থানা পুলিশ হুমকিদাতাদের আটকে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মো. শওকত কবীর। পাশাপাশি হামলার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও নারী মুক্তি কেন্দ্র।
এ প্রসঙ্গে বুধবার (২ আগস্ট) বিকালে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মো. শওকত কবীর জানান, পুলিশ নারী ফুটবলারদের ওপর হামলার ঘটনায় আসামি নূর আলমকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিরা পালিয়ে ছিল। তবে গত মঙ্গলবার তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে মামলার বাদী সাদিয়া খাতুনকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছে। তিনি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ফুটবলার, মামলার বাদী সাদিয়া খাতুন জানান, স্থানীয় তেঁতুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সুপার কুইন ফুটবল একাডেমির নারী খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলন করেন। গত ২৭ জুলাই এই নিয়মিত অনুশীলনের ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পাশাপাশি নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে বেপরোয়া মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কোচ মো. মোস্তাকুজ্জামান আসামিদের বাড়িতে কথা বলতে গেলে তাদের ওপর আবারও লাঠিসোঁটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে খুলনা জেলা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অন্যতম নারী ফুটবল খেলোয়াড় মঙ্গলী বাগচী, হাজেরা খাতুন ও জুই মন্ডলসহ কয়েকজন মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
সাদিয়া খাতুন জানান, এ হামলার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় মামলা করেছেন। গত মঙ্গলবার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তিনি বটিয়াঘাটা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এদিকে নারী ফুটবলারদের ওপর হামলার খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান, নির্বাহী অফিসার শেখ নুরুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বক্কর মোল্লাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসারত মঙ্গলী বাগচীকে দেখতে যান। এ সময় তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এমএসএফ ও নারী মুক্তি কেন্দ্রের নিন্দা
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটায় বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার সাদিয়া নাসরিন, মঙ্গলী বাগচী এবং হাজেরা খাতুনের ওপর হামলা এবং তাদের পরিবারকে অপদস্থ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও নারী মুক্তি কেন্দ্র।
গতকাল বুধবার এমএসএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী স্বাক্ষরিত আলাদা বিবৃতিতে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।