চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২২ ২১:০৭ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২ ২১:৫০ পিএম
অপহরণচক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার। ছবি : প্রবা
মাঝ বয়সি মা মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করেন আর সেই অপহরণের মুক্তিপণ আদায় করে ছেলে। মা-ছেলের এমন অপহরণচক্রের সঙ্গে যুক্ত আছে পুত্রবধূও। চট্টগ্রামে একটি অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এমন পারিবারিক অপহরণচক্রের সন্ধান পেয়েছে বলে দাবি করেছে।
পুলিশ দাবি করছে, ঘটনাচক্রে দেখা হওয়া একজনের সঙ্গে সন্দেহের তালিকায় থাকা ব্যক্তির এনআইডির ছবির মিল থাকার জের ধরেই এই চক্রকে শনাক্ত করেছে তারা।
প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুক্রবার (৭ অক্টোবর) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি জাহেদুল কবির।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- ছখিনা বেগম হাসিনা, তার ছেলে শাহজাহান জয়, পুত্রবধূ কণা বেগম।
ওসি জাহেদুল কবির বলেন, পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর মাছ ধরার নৌকার মাঝি কামরুল অপহরণের শিকার হন। পরে অপহরণকারীরা মুক্তিপণের জন্য নৌকার মালিক শাহাদাত হোসেনকে টেলিফোন করলে সেদিনই তিনি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর দুই দিনের টানা অভিযানে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ফটিকছড়ি থেকে কামরুলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক মেহেদি হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অপহরণকারীরা মোট দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা মুক্তিপণ বিকাশে নিত। একটা এজেন্ট নম্বর ও আরেকটা মার্চেন্ট নম্বর ব্যবহার করে টাকা ক্যাশআউট করা হতো। এর মধ্যে এজেন্ট নম্বরটার লোকেশন দেখা যায় পতেঙ্গায়। সেটি জয়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। জয় দাবি করেন, তার এজেন্ট নম্বর থেকে অন্য কাস্টমার টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এমন সময় জয়ের স্ত্রী দোকানে আসেন। যে দুটি পারসোনাল নম্বরে অপহরণের টাকা নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে একটি কণা নামে রেজিস্ট্রেশন করা। কণার এনআইডি কার্ডের ছবির সঙ্গে জয়ের স্ত্রীর মিল খুঁজে পাওয়ায় মামলার জট খুলে যায়। কামরুলকে অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে প্রেমের অভিনয় করেই বাসায় ডেকে অপহরণ করা হয়েছিল। আর এই কাজটা করেছেন জয়ের মা হাসিনা।
উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তাদের দেওয়া তথ্যে ফটিকছড়ির দুর্গম এলাকা থেকে কামরুলকে উদ্ধার করি আমরা। এই চক্রের প্রধান হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় আরও মামলা আছে। সর্বশেষ হালিশহর থানার একটি মামলায় তার ছয় মাস জেলও হয়েছিল। এই তিনজন ছাড়াও এই চক্রে আরও সদস্য আছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’
প্রবা/রাই/এসআর