× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

করতোয়া নদীর নাব্য ফেরানোর প্রকল্পটি কত দিন ঝুলবে

মোহন আখন্দ, বগুড়া

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ২১:৩৭ পিএম

করতোয়া নদীর নাব্য ফেরানোর প্রকল্পটি কত দিন ঝুলবে

‘নানুর কাছে শুনেছি আমাদের এই নদী (করতোয়া) সব সময় পানিতে ভরা থাকত। বড় বড় নৌকা চলত এবং নৌকাবাইচও হতো। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই করতোয়াকে নোংরা আবর্জনাময় একটা নালার মতো দেখছি। করতোয়াকে সেই আগের মতো দেখার প্রত্যাশা নিয়ে প্রতি বছর কাগজের নৌকা ভাসাই।’ বলছিল বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তালবিয়া মাসুদ মিহিম। সে ‘বাবুই’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য। 

বগুড়া শহরের বুক চিড়ে যাওয়া করতোয়া নদীর নাব্য ফেরানো এবং দখল-দূষণ রোধে সংগঠনটির সদস্যরা প্রতি বছর বর্ষাকালে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দেয়। ছয় বছর ধরে তাদের এই কর্মসূচির খবর স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকাসহ ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমগুলোতে বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়। এতেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

নাব্য হারানো করতোয়া এখন রীতিমতো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের সবচেয়ে বড় ফতেহ্ আলী এবং চাষী বাজারে বর্জ্য ফেলা হয় এ নদীতে। এমনকি শুষ্ক মৌসুমে কালো পানিতে কখনও কখনও মরা শূকরও পড়ে থাকতে দেখা যায়। 

বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কয়েক দিনের জন্য করতোয়া যেন প্রাণ ফিরে পেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষাকালে সেই ভারী বৃষ্টিপাতেরও দেখা মিলছে না। বরং সামান্য ক’দিনের বৃষ্টিপাতে পানি কিছুটা বাড়লেও তাতে কোনো স্রোত না থাকায় নদী কচুরিপানায় ভরে যায়। যা মশার প্রজননের জন্য সহায়ক।

এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করতোয়া নদীর এসপি ব্রিজ থেকে ফতেহ আলী সেতু পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার অংশে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে মালতিনগর এসপি ব্রিজের সামনে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

তবে পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কচুরিপানা অপসারণের ওই উদ্যোগের প্রশংসা করলেও এটিকে ‘টোটকা চিকিৎসা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। করতোয়া নদীর বগুড়া অংশের ১২৩ কিলোমিটার অংশের নাব্য ফেরাতে প্রায় আড়াই বছর আগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি বলে মনে করেন তারা। কারণ নাব্য ফিরলে নদীতে কচুরিপানা জমবে না। পাশাপাশি নদীতে আবর্জনা ফেলা থেকেও বিরত রাখতে হবে। তাই মূল প্রকল্প বাস্তবায়নেই মনোযোগী হতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাউবো থেকে করতোয়া নদীর নাব্যতা রক্ষায় ২০০৩ এবং ২০১৭ সালে দু’টি প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। ফাইলবন্দি থেকে যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নেওয়া ২০১১ সালের প্রকল্পটিও। এরপর ২০২১ সালের পাউবো থেকে করতোয়া নদী উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জেলা সীমানায় করতোয়া নদীর ১২৩ কিলোমিটার অংশের পাশাপাশি ইছামাতি নদীর ৭৩ কিলোমিটার এবং গজারিয়া নদীরও প্রায় ৩৫ কিলোমটার অংশ পুনঃখননের প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রকল্পের অধীনে শহরের উত্তরে মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত করতোয়া নদীর দুই পাশে ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথাও বলা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া নদীর নাব্য ফেরার পাশাপাশি শহরের নিত্যদিনের ভয়াবহ যানজটও নিরসন হবে। সরকারি ওই সংস্থার স্থানীয় কর্মকর্তারা চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা বলেছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো প্রকল্পটি এখনও অনুমোদিতই হয়নি।

প্রকল্পটির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে পাউবোর বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, এটি অনুমোদনের জন্য এখন পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। সেটি যাচাই-বাছাই শেষে হয়তো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) যাবে। সেখানে অনুমোদিত হলেই কাজ শুরু হবে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বজলুল করিম বাহার প্রকল্পটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, ‘করতোয়া নদীর নাব্য ফেরাতে পারলে দূষণ যেমন বন্ধ হবে তেমনি অবৈধ দখলদারদের তৎপরতাও থাকবে না। তা ছাড়া নদীর দুই পাশে সড়ক নির্মিত হলে নিত্যদিনের যানজট থেকেও আমরা রক্ষা পাব। সে কারণে এটি বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, ‘করতোয়া নদীকে রক্ষা করতে হলে পাউবোর নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আসান রিপুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনুধাবন করতে হবে।’

কবে নাগাদ প্রকল্পটি অনুমোদিত হতে পারে তা জানতে চাইলে সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কিছু কাজ বাকি আছে। তবে লেগে আছি। আশা করি খুব দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদিত হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা