বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩ ২০:৩০ পিএম
কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর না পাঠানোর কারণে কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ এসএসসি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের উদাসীনতার কারণে তাদের এমন ক্ষতি হয়েছে। তবে কেন্দ্র সচিবের দাবি, তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র বোর্ডে পাঠিয়েছেন। বোর্ডের ভুলের কারণেই এমনটা হয়েছে।
এ বছর কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের কেন্দ্র ছিল কাহালু তাহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শুক্রবারের ফলাফলে দেখা যায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২৩ শিক্ষার্থী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। অথচ তারা সবাই ওই বিষয়ের এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। মূলত ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র যথাসময়ে শিক্ষা বোর্ডে না পাঠানোর কারণেই এমনটা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থী শাহাদত জামান নুর বাঁধন বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রেজাল্ট দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম। শুধু আমার সাথে এমন হয়নি আমাদের ব্যাচের ২৩ জন শিক্ষার্থীর সাথে একই ঘটনা ঘটেছে। আজ আমরা সবাই লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না।
তানভীর ইসলাম বলেন, আমরা সব পরীক্ষা অনেক ভালো দিয়েছিলাম। সব বিষয়ে আমার মার্কস ভালো এসেছে। শুধু একটা বিষয়ে ফেল আসার জন্য আজ জীবনটা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার পথে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এফ.এম.এ. ছালাম বলেন, তাহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র সচিব বেলাল উদ্দিন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুসারে নম্বরপত্র না পাঠানোর কারণে ২৩ জন শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। আমরা বোর্ডে কথা বলেছি সেখান থেকে জানানো হয়েছে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র না পাওয়ার কারণে তাদের ওই বিষয়ে ফলাফল আসেনি। তাহেরুন্নেছার প্রধান শিক্ষককে এই ব্যাপারে দ্রুত সমাধান করার জন্য জানানো হয়েছে।
তাহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন বলেন, কেন্দ্র থেকে সব শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র যথা সময়ে পাঠানো হয়েছিল। বোর্ডের ভুলের কারণে এমন হয়েছে। রবিবার বোর্ডে যাব। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, তাহেরুন্নেছার কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন যে, তিনি বোর্ডে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র জমা দিয়েছেন। তবুও তিনি রবিবার বোর্ডে যাবেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবেন।