বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৫:৪১ পিএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৬:১০ পিএম
জেলা ও দায়রা জজ আদালত বরগুনা। প্রবা ফটো
বরগুনায় ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগে এক নারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদলত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে তাকে আরও দুই মাস কারাগারে থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আশ্রাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ মো. মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তর ওই নারীর নাম রুমা আক্তার। তিনি সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের শশাতলা গ্রামের জামাল মল্লিকের স্ত্রী। রায় ঘোষণার সময় তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১০ মার্চ ওই ট্রাইব্যুনালে রুমা আক্তার একই গ্রামের আকরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তার (রুমা) স্বামী প্রায়ই বাড়িতে থাকেন না। ওই সুযোগে প্রতিবেশী যুবক আকরাম তাকে উত্ত্যক্ত করে। একই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্বামীর অনুপস্থিতে আকরাম বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় স্বামী জামাল মল্লিক বাড়িতে এলে আকরাম তাকে পিটিয়ে আহত করেন।
এ ঘটনায় আদালতে মামলার আবেদল জমা পড়লে ট্রাইব্যুনাল বরগুনা থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০১৭ সালের ৩১ মে তদন্ত কর্মকর্তা আকরামকে নির্দোষ এবং রুমা আক্তার মিথ্যা মামলা করেছেন উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে রুমা আক্তার একই ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করেন।
পরে আসামিকে খালাস দেন আদালত। মামলা থেকে খালাস পেয়ে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল আকরাম বাদী হয়ে ওই ট্রাইব্যুনালে রুমার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ মামলায় রুমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
এ বিষয়ে আকরাম বলেন, ‘আমার চেয়ে বয়সে বড় হয়েও রুমা আক্তার আমার মান সম্মান সব শেষ করে দেওয়ায় আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করি। তার স্বামী ও আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকায় রুমা জঘন্য ও মিথ্যা মামলা করে। আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।’
আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘আকরাম ন্যায় বিচার পেয়েছেন। এ ম্যাসেসটি জনগণের কাছে পৌঁছলে এভাবে আর কেউ মিথ্যা মামলা করবে না।’