টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৪১ পিএম
ঘাস বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি : প্রবা
পানি কমে যাওয়ায় যমুনা নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই সবুজ ঘাসের সমারোহ। দেখে মনে হয়, কেউ যেন সবুজের চাদর বিছিয়ে রেখেছে। চরাঞ্চলের এসব ঘাস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে টাঙ্গাইলের কয়েকশ পরিবার।
যমুনা চরাঞ্চলে বরাবরই গো-খাদ্যের সংকট থাকে। যমুনা প্রমত্তা হলে এ সংকট আরও তীব্র হয়। অসময়ে পানি বেড়ে নিচু এলাকার জমি ও বাড়ির আঙিনা তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় গো-খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। গো-খাদ্য সংকটের কারণেই ঘাস বেচা-কেনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকে।
গোপালপুরের নলিন, ভূঞাপুর উপজেলার কুঠিবয়ড়া, গোবিন্দাসী ফেরি ঘাট, মাটিকাটা, ন্যাংড়া বাজার, সিরাজকান্দী, পাথাইলকান্দি এবং কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়াতে সকাল-বিকাল বিভিন্ন জাতের ঘাসের হাট বসে। বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা সেখানে ঘাস কিনতে আসেন।
গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার, দুর্বাঘাস, গর্বাঘাসসহ কাঁঠালপাতাও বিক্রি হয়। যমুনার তীরঘেঁষা ওই বাজারগুলো এক সময় টাটকা মাছের বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সেটি ‘ঘাসের বাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
যমুনার তীরঘেঁষা গোপালপুরের নলিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি আঁটি ঘাস বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এক আঁটি কাঁঠাল পাতা ২০-৩০ টাকা, দুর্বাঘাস প্রতি আঁটি ৭০-৮০ টাকা, গর্বাঘাস ৮০-১২০ টাকা, নেপিয়ার ঘাস প্রকারভেদে ৩০-৮০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দাম কষাকষি করে চাহিদা মতো ঘাস কিনছেন।
ঘাস বিক্রি করতে আসা ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। শরৎকাল মৌসুমে চরাঞ্চলে সাধারণত কাজ থাকে না। তাই এ মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার হয়। তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে।
গোবিন্দাসী বাজারের ঘাস বিক্রেতা মোতালেব বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বর্ষা এলে কাজ না থাকায় ঘাস আর মাছ বিক্রির টাকায় আমাদের সংসার চলে। এ ছাড়া ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও চালাই ঘাস বিক্রির টাকায়। সকালে বাজারে এসে ঘাস বিক্রি করতে পারলে প্রতিদিন নৌকা খরচ বাদে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা উপার্জন করি।’
নিকরাইলের ন্যাংড়া বাজারের ঘাস ক্রেতা নাজমুল জানান, তার সাতটি গবাদী পশু রয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকট বেশি থাকে। তাই বর্ষা সময়ে চরাঞ্চলের ঘাসই ভরসা। তিনি এই বাজার থেকে নিয়মিত ঘাস কেনেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। এ সময় চরাঞ্চলের অনেক পরিবার চর থেকে বিভিন্ন জাতের কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে। এতে করে তাদের সংসার চলে ও তাদের গবাদি পশুর চাহিদাও পূরণ হয়। এ ছাড়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২০০ খামারি ঘাস চাষ করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বিক্রিও করছেন।’
প্রবা/ইউরি/এমআর