রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৩ ১৯:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. মহিউদ্দিন ও কাজী সামসুদ্দোহা ৮ বছরেরও বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি পাঠালেও তাদের কোনো হদিস না পাওয়ায়, সব চিঠিই ফেরত এসেছে। এদিকে পদ দুটি ৯ বছরেও শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। এ অবস্থায় চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে ১৯টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ১১জন, বাকি ৮টি পদ শূন্য। অন্যদিকে সিনিয়র নার্স স্টাফের ৩০ জনের মধ্যে আছে ২১ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ১১১ জনের মধ্যে আছে ৬০ জন। চতুর্থ শ্রেণির ২৭ জনর মধ্যে আছে ১১ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো.) ডাক্তার মো. মহিউদ্দিন ও একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে দুজন ওই সময় থেকে কোনো বেতন-ভাতাও তোলেননি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তারা একজন দেশের বাইরে আছেন আরেকজন দেশে একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
মহিউদ্দিন ২০১৫ সালে ৬ এপ্রিল অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। আর ২০১৪ সালে ২০ নভেম্বর উপজেলা মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজী সামসুদ্দোহা যোগদান করেন। পরে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ছুটি নেন, এরপর তারা এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে ফেরেননি। কর্তৃপক্ষ এই দুই ডাক্তারের স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার চিঠিও পাঠিয়েছে। কিন্তু সব চিঠিই প্রাপককে না পেয়ে ফেরত এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মেডিকেল অফিসার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেসব চিকিৎসক আইন ভঙ্গ করে অনুপস্থিত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ তাদের যোগাযোগ খুবই উচ্চপর্যায়ের। কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলেই তদবির আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, ‘কাজী সামসুদ্দোহা ও মহিউদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও শৃঙ্খলা বিভাগে জানানো হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে সাধরণ মানুষকে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট থাকার কারণে জনগণকে সেবা দেওয়া কষ্টদায়ক হয়ে যাচ্ছে এবং ডাক্তার সংকটতো আছেই। সব মিলিয়ে আসলেই অতিরিক্ত রুগীর কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে। এই খালি পদগুলোর জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে যাতে এই পথগুলো পূরণের ব্যবস্থা করা হয়।’
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আহাম্মদ কবীর বলেন, ‘রায়পুর উপজেলায় মাঠকর্মীসহ ১৮০টি পদের মধ্যে ৯৭ জন কর্মরত আছে। বাকি ৮৩টি পদ শূন্য। এই শূন্য পথগুলোর জন্য বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর কোনো সমাধান হচ্ছে না। এবার এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তদবির করে দেখি কিছু করা যায় কি-না। আর বাকি যে দুজন দীর্ঘ ৮ বছর অনুপস্থিত, আমি তাদের ব্যাপারে গতকালকেও চিঠি দিয়েছি আমাদের শৃঙ্খলা বিভাগকে। দেখি তারা কি ব্যবস্থা নেয়। আমি তো তাদেরকে বহিষ্কার করতে পারি না।’