কাওছার আহমদ, সিলেট
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৩ ১৭:১৩ পিএম
মূল সড়কের দুই পাশ দখল করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের পসরা সাজিয়েছেন।। ছবি : প্রবা
সিলেট নগরীর বেশিরভাগ ফুটপাথ আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। ফুটপাথের পাশাপাশি অনেক স্থানে মূল সড়ক দখল করে ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন। এতে এসব স্থান দিয়ে চলাচল করতে পথচারীদের বেগ পেতে হচ্ছে। এসব জায়গায় প্রায় যানজট লেগেই থাকছে। পথচারী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুলিশ ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
রবিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিন দেখা গেছে, দখল হয়ে পড়া ফুটপাথে শাকসবজি, ফলমূল, কাপড়, জুতা ও প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় পথচারীদের হেঁটে যাওয়ার সুযোগ নেই। বেশিরভাগ পথচারী সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। নগরীর জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, উপশহর, বন্দরবাজার, সিটি পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট, লালদীঘিরপাড়, মদিনা মার্কেট ও টিলাগড় এলাকার ফুটপাথ এবং মূল সড়কের দুই পাশ দখল করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের পসরা সাজিয়েছেন। এসব এলাকা ছাড়াও নগরীর অন্তত ১৭টি এলাকায় ফুটপাথ দখল করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালাচ্ছেন।
সিটি করপোরেশনের সূত্র জানায়, নগরীর ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হকার উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও ফুটপাথ ছাড়তে নারাজ হকাররা। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৭০ হকারকে লালদীঘিরপাড় এলাকায় পুনর্বাসন করে। এসব হকার নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহট্টা এলাকার বিভিন্ন ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করতেন। তবে কয়েক মাস এখানে হকাররা বসার পর ক্রেতারা যান না অভিযোগ তুলে নিজেদের মতো করে আবার ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন।
এদিন বিকালে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় কথা হয় পথচারী শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জিন্দাবাজার, সিটি পয়েন্ট ও বন্দরবাজার এলাকায় বিশেষ করে বিকাল বেলা হাঁটার কোনো উপায় থাকে না। ফুটপাথের পাশাপাশি মূল সড়ক দখল করে কয়েকশ হকার বসেন।
আম্বরখানা এলাকায় কথা হয় পথচারী স্কুলশিক্ষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাঝখানে কিছুদিন ফুটপাথ হকারমুক্ত হওয়ায় শান্তিতে হাঁটাচলা করা গেছে। কয়েক মাস ধরে আবার আগের অবস্থা ফিরে এসেছে। এখন সব ফুটপাথই দখল হয়ে গেছে।’
বন্দরবাজার ও চৌহাট্টা এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করতেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে তিনি অভিযান চালাননি। যার কারণে হকাররা ফুটপাথ আগের মতো দখলে নিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মূলত দুপুরের পর থেকে হকাররা পসরা বসাতে শুরু করেন। সন্ধ্যার পর পুরো ফুটপাথ হকারদের দখলে চলে যায়। নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা উচিত।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুল হক বলেন, পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সিটি করপোরেশন নিয়মিত অভিযান চালায়। তবে বর্তমানে সিটি মেয়র অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় একটু কম অভিযান চালাচ্ছেন। শিগগিরই আগের মতো অভিযান হবে। এ ছাড়া ফুটপাথগুলো দখলমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশন, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ সদিচ্ছার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেট মহানগরের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কথা বলেন। ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখার জন্য সিটি করপোরেশন ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।