র্যাবের অভিযান
কক্সবাজার অফিস ও বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১৩:২৮ পিএম
ফাইল ফটো
কক্সবাজারের টেকনাফের গহিন পাহাড়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়েছে র্যাব। বাহিনীটির দাবি, সেখানে ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় ছাড়াও হত্যার পর গুম করা হতো।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার সেই আস্তানায় অভিযান চলে। এ সময় আরসার সামরিক কমান্ডারসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি।
গতকাল শনিবার সকালে র্যাব-১৫-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেপ্তার আরসার সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদ (২৮) কুতুপালং ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের ছেলে। গ্রেপ্তার আরসার অন্য সদস্যরা হলেন- ধলা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হোসেন জোহার (৩০), ওবায়দুর রহমানের ছেলে মো. ফারুক হারেস (২৩), জমলুকের ছেলে মনির আহাম্মদ (৩৬), অলি আহমদের ছেলে নূর ইসলাম (২৯) ও হোসেনের ছেলে মো. ইয়াছিন (২১)।
র্যাব জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, একটি শটগান, চারটি দেশীয় তৈরি এলজি, তিনটি রামদা ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আরসার গোপন আস্তানার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে প্রথমে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের অন্যতম সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা খুন ও অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানান, নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে আরসার ৩০-৩৫ সদস্য কুতুপালং ক্যাম্প ও তার আশপাশের এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান করতেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের খুন, অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না পেলে অপহরণ করে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করতেন। মুক্তিপণ না পেলে খুন করে গহিন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে লাশ গুম করা হতো।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নুর মোহাম্মদ ২০১৬ সালে আরসায় যোগ দেন। তিনি কুংফু ও বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী। তার নেতৃত্বেই ক্যাম্পে হেড মাঝি শফি উল্লাহ, সালাম, সলিম, মালেক, হাবুইয়া, ইমান, আবুল মুনসুর, সালেহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচিত ছয়জন হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।
জোহার হেড মাঝি আবু তালেবকে গুলি করে হত্যা, সাব-মাঝি সৈয়দ হোছেনকে গুলি করে চোখ উপড়ে ফেলে হত্যা ও শফিকুর রহমানকে গুলি করে হত্যার প্রধান সহযোগী ছিলেন। ফারুক আরসার প্রহরী দলের প্রধান সমন্বয়কারী এবং ‘টর্চার সেলের’ তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। মনির, নূর ইসলাম ও ইয়াছিন আরসা ঘাঁটির নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন।
গ্রেপ্তারদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, ক্যাম্পে আরসার ৪৫০ সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।
অপহরণ চক্রের দুই রোহিঙ্গা সদস্য গ্রেপ্তার
টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত এনজিওকর্মী ও এক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্রসহ অপহরণ চক্রের দুই রোহিঙ্গা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার হ্নীলার জাদিমোরা শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ওই দুজনকে অপহরণ করা হয়। তারা হলেন- জাদিমোর এলাকার মৃত তজুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হাসান (৫০) ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হাকিম আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০)। হাসান এনজিও ফোরাম নামের একটি সংস্থায় ক্যাম্পে পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কর্মী।
গ্রেপ্তাররা হলেনÑ টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সৈয়দ হোছেনের ছেলে মো. সেলিম প্রকাশ ছলিম (৩৩) ও একই ক্যাম্পের রশিদ আহমদের ছেলে মো. জসিম (১৯)।
বান্দরবানে তিন নির্মাণ শ্রমিককে অপহরণ
বান্দরবানে তিন নির্মাণ শ্রমিককে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়। অপহৃতরা হলেন- কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুঁটাখালী এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (২০), ইসমাইল হোসেন (২১) ও ইমাম হোসেন (২০)।
জানা যায়, বান্দরবান-কাপ্তাই সড়কের ডাকবাংলো এলাকায় সড়ক উন্নয়নকাজ করছিলেন শ্রমিকরা। গত ২০ জুলাই রাতে তাদের অস্থায়ী শ্রমিক ছাউনি থেকে অস্ত্রের মুখে ওই তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক অপহরণের খবর শুনেছেন। তাদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।