রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৩ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩ ১৯:১০ পিএম
নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের চনপাড়ায় মাদক কারবারসহ বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় চনপাড়া মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২১ জুলাই) রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ সংঘর্ষ হয়।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. হৃদয় খান, মো. ইসমাইল ও মো. ইলিয়াছ। আহতরা সবাই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা আলম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চনপাড়া বাজারে ইউপি সদস্য শমসের বাহিনীর সঙ্গে তার প্রতিপক্ষ জয়নাল বাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শমসের হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ওই একই এলাকার আলমগীরের বাম পায়ে, হৃদয়ের কোমরে, ইসমাইলের হাতে এবং ইলিয়াসের পায়ে একটি করে গুলি লাগে। পরে তাদের রাত সাড়ে ৩টার দিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চনপাড়ার শীর্ষ মাদক কারবারি ও ইউপি সদস্য বজলু মারা যাওয়ায় গত ১২ জুন এখানে উপনির্বাচন হয়। এরপর থেকে চনপাড়ার আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারের দখল নিয়ে কয়েকদিন পরপর চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নাল ও শমসের গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। ১২ জুন উপনির্বাচনে শমসের ইউপি সদস্য বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তার গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ জয়নাল গ্রুপ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার রাত ৮টার পর থেকেই ইউপি সদস্য শমসেরসহ তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় তার প্রতিপক্ষ জয়নাল ও তার লোকজনও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাল্টা অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় গ্রুপের লোকজন অন্য পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বস্তি এলাকার অন্তত ২৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয় বলেও স্থানীয়রা জানায়। রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষ শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এর আগেও শমসের ও জয়নাল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গত ৩ জুলাই রাতে সংঘর্ষে হৃদয় নামের একজন গুলিবিদ্ধসহ ৯ জন আহত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ২৩ জুন দুপুরেও সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তার আগেও একাধিকবার চনপাড়ায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিতে গ্রুপগুলো সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।