সন্দ্বীপ উপজেলা উপনির্বাচন
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ২২:০১ পিএম
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়াম্যান পদে জয়ী প্রার্থীকে ভোট চুরি করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা যুবলীগের নেতারা। গত বুধবার (১৯ জুলাই) রাতে এই মিছিল হয়। এই উপজলার সারিকাইত ইউনিয়নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবীবুল আউয়ালের বাড়ি।
গত বুধবার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এতে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম জিল্লু। ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওমর ফারুককে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শফিকুর রহমান। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে এনাম নাহার মোড়ে আসেন ইব্রাহীম জিল্লু। এ সময় মিছিলে ‘ভোট চোর, ভোট চোর’ শ্লোগান দেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে পরাজিত প্রার্থী ইব্রাহীম জিল্লু বলেন, ‘আমি ১১ শত ভোটে এগিয়ে ছিলাম। তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাকে হারিয়ে দিয়েছে। এটা আমি প্রত্যাখান করলাম। মাননীয় সিইসি মহোদয়ের বাড়ি সন্দ্বীপ। ওনার বাড়িতে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সারা বাংলাদেশের অবস্থা কী হবে?’
নির্বাচনের শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন জিল্লু। জিল্লুর সমর্থকদের দাবি, তৃণমূল পর্যায় থেকে পাওয়া ৮৩ কেন্দ্রের ফলাফলে প্রায় চার হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন ইব্রাহীম জিল্লু। পরে আবার কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল বদলে দিয়ে ফারুকের বিজয় নিশ্চিত করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইব্রাহীম জিল্লু বলেন, ‘যখন দেখা গেল চার হাজার ভোটকে কাভার দেওয়া যায় না। তখন আওয়ামী লীগ অফিস থেকে বেদন (উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) নামের এক ব্যক্তি প্রিসাইডিং অফিসারদের দায়িত্ব দিয়েছে রেজাল্ট পাল্টানোর জন্য।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত জোড় করে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি পেয়েছি। কিন্তু রক্ষা করতে পারি নাই। এটার দায়ভার আমার।’ বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জিল্লু।
এ সময় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমান বলেন, ‘জিল্লুকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই। তাকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করা হয়েছে। শুধু জিল্লুকে হারানো হয় নাই সন্দ্বীপের বিবেকবান মানুষকে হারানো হয়েছে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করবো না, আল্লার কাছে বিচার দিয়ে আমরা যার যার ঘরে ফিরে যাব।’
এ সময় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো কথা বলেননি। বিধ্বস্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে বসে ছিলেন তিনি।
তবে যুবলীগ নেতাদের এই মিছিল ও সমাবেশকে ‘পাগলামী’ হিসেবে অভিহিত করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলাউদ্দিন বেদন। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘এখানেতো আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচন করেছে। একেকজন ব্যক্তিগতভাবে একেকজনের নির্বাচন করেছে। নির্বাচন কে কীভাবে নিয়েছে সেটা প্রশাসনিক বিষয়। এখন কে কীভাবে ভোটের হিসেব করছে, কীভাবে এগিয়ে ছিল আমরাতো জানি না। তারা (যুবলীগ) কেন মিছিল করলো, কেন এসব করল; বুঝতে পারছি না। শুধু শুধু একটা পাগলামী করলো।’
ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ওমর ফারুক পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭ ভোট, ইব্রাহী জিল্লু পেয়েছেন ১৩ হাজার ১১০ ভোট, দেলোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৮ ভোট।
ভোটে কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। নির্বাচনে আটজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫০০ পুলিশ সদস্য, ৫ ইউনিট র্যাব, কোস্টগার্ড নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। পরাজিত প্রার্থী যা বলছেন যেগুলো ওনার বিষয়। সে সম্পর্কে আমি মন্তব্য করতে চাই না।’