নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ১৮:২৫ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩ ১৮:৫৬ পিএম
আধিপত্য বিস্তারের জেরে নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রবা ফটো
আধিপত্য বিস্তারের জেরে নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের খোদাদিলা গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদী সদর থানার উপপরিদর্শক অভিজিৎ চৌধুরী ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে শর্টগানসহ নাজমুল ইসলাম ও আল-আমিন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, নাহিদ সরকার, আল-আমিন, সাকিব সরকার ও শফিউল্লাহ। টেঁটাবিদ্ধসহ আহতরা হলেন, হালিম মিয়া, হারুন মিয়া, মাসুদ রানা, নাজমুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আল-আমিনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই খোদাদিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বজলুর রহমান ফাহিম এবং যুবলীগের নেতা জাকির হোসেনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে উভয় গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা জাকির ও ফাহিম এলাকাছাড়া হয়ে পড়েন। সর্বশেষ এ দিন ভোররাতে তাদের সমর্থকরা বাঁশগাড়ী ও নীলক্ষার থেকে লোকজন নিয়ে এলাকায় ঢোকেন। এ খবর জয়নাল গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা তাদের প্রতিহত করে।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আল-আমিনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। দুই পক্ষের ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এক পক্ষের নেতা জয়নাল বলেন, মামলায় আসামি হয়ে জাকির ও ফাহিম এলাকাছাড়া। হঠাৎ ফজরের নামাজের পর তাদের নেতৃত্বে বাঁশগাড়ী ও নীলক্ষার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এলাকায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ঘেরাও দিয়ে অস্ত্রসহ নাজমুল নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে নাজমুল পুলিশকে জানিয়েছেন, ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে তিনিসহ মোট তিনজন নীলক্ষা থেকে ভাড়ায় এসেছেন। তার এই স্বীকারোক্তি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অপর পক্ষের নেতা জাকির বলেন, ’বুধবার আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ ছিল। সেখানে আমাদের লোকজন যাওয়ায় জয়নাল ও তার ভাইয়েরা আমাদের লোকজনকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে জয়নাল লোকজন নিয়ে আমার ও আমার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়।’
৫ লাখ টাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ভাড়া আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’এগুলো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ। এসব সঠিক নয়।’
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজওয়ানা জেবিন জানান, টেঁটাবিদ্ধ নাজমুলকে পুলিশই হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদী সদর থানার উপপরিদর্শক বলেন, ’এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এখন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’