বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৪:০২ পিএম
বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তাই খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। প্রবা ফটো
ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় তিন বছর আগে। এরপর খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। এ ছাড়া ঝড়-বৃষ্টি এলে ঝুঁকি নিয়ে সেই পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় চলে লেখাপড়া।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে উত্তর টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে টিনশেডের ঘরে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছিল। ২০০৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর একতলা ভবন নির্মাণ করে দেয়। ভবন নির্মাণের ১০ বছরের মাথায় ছাদে ও দেয়ালে ফাটল ধরে পলেস্তারা খসে পড়ে। ২০২১ সালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ ওই বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রোদে গাছতলায় এবং বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় পাঠদান চলছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গাছতলায় এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় পাঠদান চলছে। আর অন্য শ্রেণির ক্লাস একটি ছোট টিনের ঘরে করানো হচ্ছে। শিক্ষার্থী আবু হানিফ বলে, প্রচণ্ড রোদে গাছতলায় এবং বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় আমরা বেশ কষ্টে ক্লাস করছি।
আরেক শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার বলে, একমাত্র আমাদের এই কষ্ট দূর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তার কাছে দ্রুত আমাদের স্কুলভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ বলেন, স্কুল চলাকালে ঝড়-বৃষ্টি এলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই আশ্রয় নিতে হয়। এসব কারণে বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমছে। বাধ্য হয়ে অনেক শিশুই পার্শ্ববর্তী এলাকার বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক ডেইজি বিশ্বাস বলেন, বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় আমাদের পাঠদান করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদে গাছতলায় এবং বৃষ্টিতে বারান্দায় ক্লাস করছি। গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছে। এতে আমাদের বেশ সমস্যা হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিকুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের চাহিদা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, দ্রুত ওই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।