রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ২০:২৪ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ২০:৪০ পিএম
রংপুরে হরিজন সম্প্রদায়ের কিশোরকে হোটেলে বসে খেতে না দেওয়া ও অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন। ছবি : প্রবা
রংপুরে হরিজন সম্প্রদায়ের কিশোরকে হোটেলে বসে খেতে না দেওয়া ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন।
সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর কাচারী বাজারে মানববন্ধন ও সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য দেন—হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের সভাপতি রাজা বাসফোর, সহসভাপতি রাজু বাসফোর, সাধারণ সম্পাদক সাজু বাসফোর, উপদেষ্টা শবরন বাসফোর, লিটন বাসফোরসহ অন্যরা। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার খানম শিখা, বাসদ জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু।
বক্তারা বলেন, দেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ সমাজ হরিজনদের নিচু শ্রেণির বলে বৈষম্য সৃষ্টি করছে, তাদের অধিকার হরণ করছে। তাদেরকে পিছিয়ে রাখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের কোনো মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। সবাইকে সমাজের মূলস্রোত ধারায় আনা হবে। কিন্তু এ যুগেও একজন হরিজন সম্প্রদায়ের ছাত্রকে হোটেলে বসে খেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তারা হোটেলে খেতে পারবে না—এমনটি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে লিখিত আকারে দেওয়া হচ্ছে।
মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পরও যদি প্রশাসন তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামীতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন হরিজন নেতারা।
শনিবার (১ অক্টোবর) রংপুর নগরীর কাচারী বাজারের মৌবন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের স্কুলছাত্র জীবন বাসফোরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ‘এই হোটেলে খাওয়া নিষেধ সুইপারের’ লিখে ওই হোটেলে হরিজনদের খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফুসে ওঠে হরিজন সম্প্রদায় ও সচেতনরা। ন্যায়বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা।
প্রবা/আরএম/ এমআই