চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৩০ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৪৩ পিএম
চট্টগামে কুমারী পূজার আসন অলংকৃত করে সাত বছরের প্রীতি ধর। ছবি : প্রবা
চট্টগ্রামের পাথরঘাটা শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে কুমারী পূজা হয়েছে। এবার কুমারী পূজার আসন অলংকৃত করে সাত বছরের প্রীতি ধর। তার শাস্ত্রীয় নাম ‘মালিনী’। শাস্ত্রমতে, ‘মালিনী’ নামে কুমারী পূজিত হলে ধনৈশ্বর্য লাভ হয়।
সোমবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের পাথরঘাটা রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে এ কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। এতে পৌরহিত্য করেন শ্রীমৎ শ্যামানন্দ দাস মোহন্ত মহারাজ।
মালিনী নামে পূজিত হওয়া এবারের কুমারী প্রীতিধর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটার সেন্ট স্কলাস্টিকাস স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা স্বর্ণব্যবসায়ী মিন্টু ধর এবং মা গৃহিণী পলি ধর। তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। তবে তারা মহানগরীতে বাস করেন।
কুমারী পূজায় সোমবার ভোর থেকেই মন্দিরে ভক্তের ঢল নামে। কুমারী মাকে কাছ থেকে দেখতে এবং মায়ের কৃপা লাভে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সি নারী-পুরুষ।
হিন্দুশাস্ত্র মতে, মাতৃরূপে ঈশ্বরের একটি আরাধনা কুমারী পূজা। কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। কুমারী শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে নির্বাচিত করা হয়। মূলত নারীর যথাযথ মর্যাদা অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। কুমারী প্রতীকে জগৎজননীর পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ হয়। এক্ষেত্রে ১ থেকে ১৬ বছরের কুমারী কন্যাকে মনোনীত করা হয় পূজার জন্য। এদিন দেবী দুর্গার অপর কোনো নামে কুমারীর নামকরণ করা হয়।
বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। কুমারীর বয়স এক বছর হলে নাম হবে সন্ধ্যা, দুই বছর হলে সরস্বতী, তিন বছর হলে ত্রিধামূর্তি, চার বছর হলে কালিকা, পাঁচ বছর হলে সুভগা, ছয় বছর হলে উমা, সাত বছরের হলে মালিনী, আটে কব্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে।
এবারের পূজার পূজারী ছিলেন পরম বৈষ্ণব দাস, তন্ত্রধার ছিলেন দেবত নাথ (জুয়েল), তার সঙ্গে ছিলেন পরম বৈষ্ণব বলরাম দাস, যশোদ রঘু দাস, নিমাই দাস ও সীতানাথ দাস।
মেয়ে কুমারী পূজার জন্য মনোনীত হওয়ায় ভীষণ খুশি বাবা মিন্টু ধর ও মা পলি ধর। প্রীতিকে পূজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
প্রবা/আরএম/ এমআই