বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৩ ২০:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩ ২১:২৩ পিএম
সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ফাইল ছবি
বরিশাল ক্লাব পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সদস্য মফিজুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. বায়েজিদ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সেক্রেটারিকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, মফিজুর রহমান চৌধুরী বরিশাল ক্লাবের ৪৬২ নং সদস্য। মামলার ১ নং বিবাদী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সদস্য হন। তার সদস্য নম্বর ৬৭৬। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি হতে হলে অন্তত ১০ বছরের সদস্যপদ থাকতে হবে। সেই অনুযায়ী সদস্যপদ লাভ করার তিন বছরের মাথায় সভাপতি নির্বাচিত হতে পারেন না। কিন্তু সাদিক আব্দুল্লাহ ২০১৯ সালের ৮ মার্চ গঠনতন্ত্রের ৩২ (খ) ধারা লঙ্ঘন করে বেআইনি ও অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখল করেছেন।
তিনি আরও জানান, মেয়র বেআইনিভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েই বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) জন্য ক্লাবের দুটি রুমের ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার খেয়ে বিল পরিশোধ করেননি। ফলে তার কাছে কোটি টাকার ওপরে পাওনা রয়েছে ক্লাবের। যার দায়ভার বাদীসহ ক্লাবের সদস্যদের বহন করতে হচ্ছে।
আজাদ রহমান জানান, প্রতি দুই বছর পর পর ক্লাবের স্থায়ী/আজীবন সদস্যদের ভোটে সভাপতি ও পরিচালক নির্বাচিত হন। অথচ পদ দখল করে ২০১৯ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচন দেননি সাদিক আব্দুল্লাহ। গঠনতন্ত্র মতে মফিজুর রহমান ৭ জুলাই সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সাদিক আব্দুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ বিষয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে শুনেছেন, ক্লাবের একজন সদস্য তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে বোঝা যাবে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তবে যেটুকু শুনেছি, তাতে আমাকে যখন সভাপতি করা হয়, তখন অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক সাধারণ সভা করে সদস্যরা গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। এক হাজারের ওপরে সদস্য থাকা একটি লিমিডেট প্রতিষ্ঠানে জোর করে সভাপতি পদ দখল করা যায় কি? ক্যাফেটেরিয়ার ও রেস্ট হাউসের বিলের বিষয়ে একজন সদস্য কী বলল, সেটা বড় কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, ক্লাব পরিচালনার জন্য ১০ জন পরিচালক আছেন। তারা কী বলছেন?’