চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৩ ০০:৫৭ এএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৩ ১০:৫৬ এএম
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির কার্যালয় বন্ধ ছিল প্রায় ১০ বছর। জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সম্প্রতি কার্যালয়টি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। কাজ শুরু করলেও দুই দিনের মাথায় সেটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে তাদের। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে সংস্কারকাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
গত শুক্রবার সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত বিএনপির ওই কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে আমাদের দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। আমরা সেটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অফিসের নানা অংশের কাঠ ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যায়। শুক্রবার আমরা অফিস পরিদর্শন করি। শনিবার সংস্কারকাজ শুরু হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হুমকিধমকি দিচ্ছে। আতঙ্ক তৈরি করছে।’
দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয় খোলা ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী দলবেঁধে কার্যালয়ের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে থাকেন। ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার উপজেলা কমপ্লেক্সে মিছিলের ডাক দেয় উপজেলা ছাত্রলীগ। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন শাহীন বলেন, ‘আমরা ভেবেছি এখন থেকে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলো কার্যালয়ে পালন করব। কার্যালয় চালু হওয়ায় সবার মধ্যে উচ্ছ্বাস-আনন্দ তৈরি হয়েছে।’ কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হুমকি দেওয়ায় তারা আপাতত বন্ধ রেখেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে আলমগীর হোসাইন ঠাকুর বলেন, ‘কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর পুলিশের সহযোগিতা চাইলে তারা সাড়া দেয়নি।’ তবে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কারও কাছে শোনেনওনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। তবে উপজেলা ছাত্রলীগ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা মিছিল করেছি। বিএনপির দলীয় কার্যালয় সংস্কারকাজে আমরা বাধা দিইনি।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন মিশন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল করবে না? মিছিল করতে বাধা আছে নাকি? বিএনপির কার্যালয় বন্ধ করার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। শুনিওনি এ বিষয়ে।’