রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৩ ২১:৫৯ পিএম
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় এমপিসহ অন্য নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর তানোর উপজেলার দরগা ডাঙা স্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ রেখে ওই স্কুলের মাঠে বিশাল প্যান্ডেল সাজিয়ে কলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবারের (১১ জুলাই) ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, এমপি তার অনুসারীদের খুশি করতে এক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে পৃথক দুটি কমিটি ঘোষণা করেন।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে কলমা ইউনিয়ন পূর্বের সভাপতি করা হয় পল্লী বিদ্যুতের সাবেক ঠিকাদার আব্দুর রাহিমকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় চন্দনকোঠা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারকে। আর পশ্চিমের সভাপতি করা হয় মনসুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় আতাউর রহমানকে।
এদিকে সম্মেলনে দ্বিতীয় অধিবেশনে ইউনিয়ন পূর্ব ও পশ্চিম দুই কমিটিতে ৫ থেকে ৭ জন করে পদ প্রত্যাশী থাকলেও পছন্দের সভাপতি-সম্পাদকসহ চারজনের নাম ঘোষণা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন।
এমন অবস্থায় কারও কোনো মতামত ছাড়া এমপির অনুসারীদের নিয়ে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুটো কমিটিতে নাম ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
দরগা ডাঙা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল কবির বকুল বলেন, আমার স্কুল ও কলেজে ৪০০ শিক্ষার্থী। এমপি (ফারুক চৌধুরী) মহোদয় সম্মেলনের জন্য আমার স্কুলের মাঠ নির্ধারণ করেন। মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্কুলের মাঠে লোকে লোকারন্য হয়ে ওঠে। যার কারণে একটা পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতা মো. তানভীর বলেন, ‘স্কুল মাঠে সম্মেলন হয়েছে। তবে স্কুল ছুটি দেওয়া হয়নি। বিকেলে অনুষ্ঠান হয়েছে। যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
কলমা ইউনিয়ন পূর্ব শাখার নতুন কমিটির সভাপতি আব্দুর রাহিমের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তানোর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘স্কুল বন্ধ রেখে কোন অনুষ্ঠান করার সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে আমার কোনকিছুই জানা নেই বা কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।’
পরে তিনি স্থানীয় এমপির সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
বিষয় নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার কল করা হলেও এমপি ফারুক চৌধুরী কল রিসিভ করেননি।
কলমা ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটির বিষয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘এমপি ফারুক চৌধুরী নিজেই তো বিএনপির লোক। তাই তার করা কমিটি নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই।’