শারফুদ্দীন কাশ্মীর, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৩ ১৩:৫৬ পিএম
ফাইল ফটো
‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি’র এক যুগ পূর্ণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। আজ তাদের স্মরণ করার দিন। ২০১১ সালের এই দিনে মিরসরাই সদর স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় তাকিয়া আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় মিনিট্রাক উল্টে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ৪৩ শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। স্মরণকালের ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিবছর এদিনে স্মরণ করেন স্বজন-প্রতিবেশী, সহপাঠী-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ। দিবসটিকে ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিক মর্জিনা আক্তার ও স্থানীয় মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহামদ নিজামী জানান, বেলা ১১টায় দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। বেলা ১১টায় দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতির বেদি ‘অন্তিম’ ও পরে স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্মৃতির বেদি ‘আবেগ’-এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। তারপর স্ব-স্ব ধর্মানুযায়ী দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে। এরপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ মাহবুব রহমান রুহেল।
ফিরে দেখা
২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই সদর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা ছিল। খেলা দেখে জয়ের আনন্দ নিয়ে একটি মিনিট্রাকে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছিল প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী। বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের (বর্তমান মিরসরাই ইকোনমিক জোন সড়ক) সৈদালী নামক স্থানে ট্রাকটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ৩৮ জন শিক্ষার্থীসহ একজন এলাকাবাসী। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবক। নিহত শিক্ষার্থীদের সবাই স্থানীয় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়, প্রফেসর কামাল উদ্দীন চৌধুরী কলেজ, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আবুতোরাব মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছিল। নিহতদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল বেশি।
সেদিন একসঙ্গে ৪৩ শিশু-কিশোর, এক গ্রামবাসী আরেকজন অভিভাবকের মৃত্যু স্তব্ধ করেছিল পুরো জাতিকে। ৪৫টি তাজা প্রাণ মুহূর্তেই স্মৃতি হয়ে মিলিয়ে গিয়েছিল সেদিন। তার সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছিল অজানা হাজারো রঙিন স্বপ্ন। লাশের মিছিলে ভারী হয়ে উঠেছিল গ্রামের পর গ্রাম। শোকের জনপদে পরিণত হয় মিরসরাইয়ের মায়ানী, আবুতোরাব, মঘাদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী চারটি গ্রাম। তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী ও সচিব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন নিহতদের স্বজন-সহপাঠীদের সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু কিছুতেই শোক ভুলতে পারেনি স্বজন কিংবা সহপাঠীরা। ঘটনার প্রথম কয়েক মাস মানসিক অস্বাভাবিকতা বিরাজ করত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শ্রেণিকক্ষে এসে অজ্ঞান হয়ে যেত অনেক শিক্ষার্থী। অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল পাঠদান কার্যক্রম। অজানা আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটতে থাকে অভিভাবকদের। এখনও সাকিব, তোফাজ্জল, জাহিদ, রাহাত, সাখাওয়াতের স্মৃতিতে আঁতকে ওঠেন নিহতদের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা।