বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৫:০৪ পিএম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৬:৪২ পিএম
বাউফলে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গে খোলামেলা মশারি ছাড়াই চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর বাউফলে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এক সপ্তাহে বাউফলে শতাধিক মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনক। এতে উপজেলা জুড়ে জনসাধরণের মাঝে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। উপজেলা প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে লার্ভা শনাক্ত ও মশা নিধনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই কোনো পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট। নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সাধারণ রোগীর সঙ্গে রেখে মশারি ছাড়াই চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা। এতে ঝুঁকিতে পড়েছেন অন্য রোগী ও স্বজনরা।
সোমবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের চারপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। যেখানে ভনভন করছে মশা-মাছি। পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা। তাদের মধ্যে অনেকেই মশারি ছাড়াই থাকছেন। ফলে আক্রান্তদের থেকে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সাধারণ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আমেন বেগম (৫৫)। তার শয্যায় নেই মশারি। খোলামেলা চলছে ডেঙ্গু চিকিৎসা। পাশেই রয়েছেন অন্য রোগীরা। আমেনা বেগমের স্বজনেরা জানান, আমেনা বেগমের স্বামী ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। তিনি স্বামীর সেবাযত্ন করতে ঢাকা গিয়ে আক্রান্ত হন। একইভাবে মো. শামীম নামের আরেক ডেঙ্গু রোগীও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ডেঙ্গু চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কোনো কোনো ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় মশারি থাকলেও তা তুলে রাখা হয়েছে। এতে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা। মো. হাসিবুল নামের এক সাধারণ রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতাল ছেলেখেলার মতো করে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করছে। কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকারী উদ্যোগও নিচ্ছে না। যা উদ্বেগজনক।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৪২ জন। যার মধ্যে দুই জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২ জন। তবে ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা আরও ভয়াবহ। গত জুন থেকে উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৫০ জন ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে গত সাত দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১০০ জন। যার অধিকাংশ রোগী বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকতার কার্যালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ এএসএম সায়েম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। বাহক হিসেবে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে জীবাণু অন্য শরিরে ছড়িয়ে দেয়। যার কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাহক এডিস মশার উপত্তিস্থল শনাক্ত করে ধ্বংস করতে হবে। রোগীর চিকিৎসা, জনসচেতনা বৃদ্ধি ও মশার উপত্তিস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, বাউফেল ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোরবানির ইদে ঢাকা থেকে আসা আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিরোধে সচেতনার বিকল্প নেই। যা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
সাধারণ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু চিকিৎসা চলছে এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, খুব শিগগরই পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট করা হবে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং করে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।