বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৩ ২২:৩৫ পিএম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৩ ১১:৪০ এএম
খামারিদের ঘেরে বিষ প্রয়োগে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ মারা গেছে। প্রবা ফটো
বরিশালের উজিরপুরে দ্বন্দ্বের জেরে খামারিদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৮ জুলাই) রাতে উপজেলার সাতলা বিলের একতা মৎস্য খামারে এই বিষ প্রয়োগ করা হয়।
প্রতিবাদে রবিবার (৯ জুলাই) দুপরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঘের মালিকরা। তাদের অভিযোগ, ঘের পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় মশিউর রহমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জেরে মশিউর রহমানসহ তার সহযোগীরা ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতলার বিলের জমির মালিকরা একত্রিত হয়ে সমিতির মাধ্যমে মাছের ঘের পরিচালনা করে আসছিল। ওই এলাকার নয়াকান্দিতে একতা মৎস্য খামার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক আজাদ। তার মৃত্যুর পরে ঘের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ছেলে মশিউর রহমানসহ কয়েকজনকে। তারা দায়িত্ব পাওয়ার পর জমির মালিক ও সমিতির সদস্যদের লাভের অংশ কম দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মাওলানা আবু ইউসুফ নামের একজন ঘের মালিক জানান, ১৩ বছর ধরে প্রয়াত সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আজাদ মিয়ার নেতৃত্বে ঘের পরিচালনা হচ্ছিল। তার মৃত্যুর পর পরিচালনার দায়িত্ব নেন ছেলে মশিউর রহমানসহ কয়েকজন। তারা জমির মালিকদের বিঘাপ্রতি দুই হাজার টাকা করে দিতেন। বছর শেষে মাছ বিক্রির লভ্যাংশ হিসেবে ১০০-৫০০ টাকা করে দিতেন। অথচ প্রতি বিঘায় গড়ে ৬৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হতো। আর বিঘাপ্রতি খরচ হতো ২২ হাজার টাকার মতো। অংশীদারদের ঠকানোর বিষয়টি সামনে চলে আসায় মশিউর রহমানসহ তার সহযোগীদের ঘের পরিচালনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে ৩১২ জন জমির মালিক নিয়ে সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ একর জমিতে ঘের করে মাছ চাষ শুরু করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় মশিউরসহ তার সহযোগীরা।
আব্দুস সালাম মিয়া নামে আরেক মালিক জানান, সমিতি থেকে বাদ দেওয়ায় শত্রুতা করে গভীর রাতে মশিউর রহমানের নেতৃত্বে মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন তাদের পথে বসার অবস্থা। ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি বলে জানিয়েছেন উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’