গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৩ ১১:৫৮ এএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
কচুরিপানা গিলছে গাজীপুরের মকস বিলের সৌন্দর্য। প্রবা ফটো
গাজীপুর জেলার অন্যতম সৌন্দর্যঘেরা বিল মকস। ঐতিহ্যবাহী এই বিলে বর্ষা মৌসুমে বিস্তৃত জলরাশি পর্যটকদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। জেলেদের মাছ ধরা আর পর্যটকদের বিল ঘুরিয়ে শতাধিক মাঝির রুটি-রুজির মাধ্যম হয়ে ওঠে এই বিল। তবে এবার বিস্তৃত জলরাশির সিংহভাগ ভরে আছে কচুরিপানায়। এতে বিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মাঝি, জেলে ও ঘুরতে আসা পর্যটকরা হতাশ।
বিলটির অবস্থান গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ও মধ্যপাড়া ইউনিয়নে। মকস বিলের তিনটি পয়েন্ট শোলহাটি, তালতলী, হাটুরিয়াচালা এলাকা ও তুরাগ নদ হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত নৌকা, মিনি বোট চলাচল করে পর্যটক নিয়ে। বৃহত্তম এই বিলের বুকে রঙ-বেরঙের নৌকায় ভরপুর থাকে। হাজার হাজার পর্যটকের উপস্থিতিতে এ বিলের কয়েকটি এলাকায় চাঙ্গা হয়ে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য। তবে কচুরিপানা থাকায় এবার সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মকস বিলে থাকে পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা। এসব পর্যটকের কথা মাথায় রেখে বিলের বিভিন্ন পাশে অন্তত অর্ধশত জলকুটির, মাঠার দোকান, রেস্তোরাঁ ও ভাসমান ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে এবার কচুরিপানা থাকায় ব্যবসা না হওয়ায় হতাশ দোকান মালিকরা। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে এই বিল থেকে মাছ ধরেও জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা। কচুরিপানা থাকায় জেলেরাও মাছ ধরতে পারছেন না।
সিনাবহ এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, মকস বিল গাজীপুরের ঐতিহ্য। বর্ষা মৌসুমে গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা আসেন। কচুরিপানা থাকায় সেই সৌন্দর্য উপভোগ করা যাচ্ছে না।
মৌচাক ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। কীভাবে এটি অপসারণ করা যায়, সেটা বের করার চেষ্টা করছি।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, বর্ষায় পানি এখন কম। পানি আরও বাড়লে এর একটা সমাধান হতে পারে। তা না হলে এলাকাবাসী লিখিতভাবে জানালে কোনো একটা প্রজেক্ট দিয়ে কচুরিপানা সরানোর ব্যবস্থা করব।