× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘নাম বিভ্রাট, ডাকাতি মামলায় কারাগারে নিরপরাধ ব্যক্তি’

ঝালকাঠি প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৯:৪৯ পিএম

শনিবার সকালে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সুরাইয়া বেগম। প্রবা ফটো

শনিবার সকালে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সুরাইয়া বেগম। প্রবা ফটো

ঝালকাঠির নলছিটিতে ডাকাতি মামলার আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার (৪৬) নামে এক ব্যক্তি ফরিদপুরে কারাবাস করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৮ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী ফিরোজের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তবে পুলিশ বলছে, ফিরোজই সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজের মেয়ে ফারিয়া আক্তার, তামিমা আক্তার ও মরিয়ম আক্তার উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে স্ত্রী সুরাইয়া অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ বরিশাল র‌্যাব-৮-এর মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের বৈশাখিয়া চৌমাথা বাজার থেকে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন রাতেই তাকে নলছিটি থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে র‌্যাব জানায়, ফিরোজ ২০০৭ সালের মার্চ মাসে সংঘটিত ফরিদপুরের একটি বাসে ডাকাতির মামলার আসামি। ২০১০ সালে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

সুরাইয়ার অভিযোগ, সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম ফিরোজাল ওরফে জুয়েল (৫০)। মামলায় আসামি হিসেবে তার নাম প্রথমে জুয়েল লেখা হয়। পরে অভিযোগপত্রে ফিরোজাল ওরফে জুয়েল লেখা হয়। সেখানে তার বাবার নাম লেখা হয় মৃত নুর মোহাম্মদ ওরফে মুন্নু মিয়া। ঠিকানা দেওয়া হয় নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের বৈশাখিয়া গ্রাম। ফিরোজাল ওরফে জুয়েল ২০০৩ সালে ফরিদপুরের ১ নম্বর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারাধীন একটি মামলায় ৭ মাস কারাভোগ করে জামিনে পলাতক ছিলেন। ২০০৭ সালের ওই বাস ডাকাতি মামলায় পুলিশ তাকে আসামি করে। সেই মামলায় ১০ বছরের সাজা হয় তার। অন্যদিকে সেই ডাকাতি মামলায় কারাগারে থাকা নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে অবস্থিত আহ্‌ছানউল্লা ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করেন।

সুরাইয়া বেগম বলেন, শবেবরাতের ছুটিতে বাড়িতে এলে তার স্বামী ফিরোজ আলম হাওলাদারকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে। আর এ ঘটনার পর আসল আসামি ফিরোজাল ওরফে জুয়েল গা ঢাকা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুরাইয়া বলেন, আমার স্বামীর পক্ষের আইনজীবী স্বপন সাহা গত ২৩ মে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, কর্মস্থলের হাজিরা খাতা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র আদালত ও ফরিদপুরের বিভিন্ন থানায় জমা দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেন তিনি নির্দোষ। ফিরোজ আলম হাওলাদার এবং ফিরোজাল ওরফে জুয়েল এক ব্যক্তি নন। আদালত এই আবেদন আমলে নিয়ে নলছিটি থানার ওসিকে ৩০ মের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নলছিটি থানার ওসি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ফিরোজ আলমই আসল আসামি ফিরোজাল ওরফে জুয়েল।

সুরাইয়া বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্য প্রমাণাদি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। আমি সন্তানদের নিয়া কষ্টে আছি। আমার স্বামীকে মুক্তি দিন।’

এ বিষয়ে ফিরোজ আলমের আইনজীবী স্বপন সাহা বলেন, তদন্তে নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই না হওয়ায় প্রকৃত আসামি আড়ালে থেকে গেছেন। আমরা পুলিশের এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দায়ের করব। এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি মুহা. আতাউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ফিরোজ আলম সাজাপ্রাপ্ত ফিরোজাল ওরফে জুয়েল। আমাদের প্রতিবেদন আদালত যাচাই-বাছাই করে এখন সিদ্ধান্ত নেবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা