সাংবাদিক নাদিম হত্যা
শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৯:০১ পিএম
সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার অন্যতম আসামি ও বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাত। প্রবা ফটো
জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও গ্রেপ্তার হয়নি এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাত। সে এখন কোথায় এবং কেন ধরা পড়ছে না- তা জানতে চেয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন নাদিমের পরিবারের সদস্যরা। নাদিমের অনার্স পড়ুয়া মেয়ে রাব্বিরাতুল জান্নাত গতকাল শনিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।
রাব্বিলাতুল জান্নাত বলেন, ‘আমার বাবার হত্যাকাণ্ডে বাবু ও তার ছেলে সরাসরি জড়িত এবং তাদের নেতৃত্বে খুন হয় আমার বাবা। এ ঘটনার পেছনে আরও মাস্টারমাইন্ড রয়েছে। বাবার মাথায় সন্ত্রাসী রিফাত ইট দিয়ে আঘাত করে। সে বন্দুক নিয়ে চলাফেরা করতো, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার গ্যাং গ্রুপের আরেক সদস্য রাকিবিল্লাহ মামলার ৩ নম্বর আসামি। সেও খুব ভয়ংকর সন্ত্রাসী। আমার বাবাকে এই রাকিবিল্লাহ সেদিন খুব মেরেছে। এরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা খুবই আতঙ্কে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিফাত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই অস্ত্র দিয়ে গ্যাং গ্রুপ গড়ে তুলেছিলো। সেই রিফাতকে এখনো খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এতে আমরা হতাশ। আমার বাবার খুনি এবং সেই অস্ত্রধারী রিফাত গেলো কোথায়, রিফাত-বাহিনী কি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে? এখনও এজাহারভুক্ত ১৭ আসামি এখনো অধরা। খুনিরা বাইরে থাকায় আমরা অনিরাপদ বোধ করছি।’
বকশিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, নাদিম হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ আসামি এজাহারভুক্ত। অন্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় গ্রেপ্তার হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৪ জুন রাতে বকশীগঞ্জের পাটহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন নাদিম। পরের দিন ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।