ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৭:৩৭ পিএম
গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগে পৌর শহরের কমলপুর নিউ টাউন এলাকার গ্রামীণ হাসপাতালে ভাঙচুর করা হয়। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় সেলিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে তার স্বজনরা। শনিবার (৮ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে পৌর শহরের কমলপুর নিউ টাউন এলাকার গ্রামীণ হাসপাতালে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেলিনা বেগম পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া আওয়ালকান্দা এলাকার আক্তার মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন সেলিনা বেগম। শুক্রবার বিকাল ৪টায় তার একটি অপারেশন করা হয়। রাত ১১ টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে ভোর ৪ টার দিকে অবস্থা বেশি খারাপ হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
সেলিনা বেগমের মেয়ের জামাতা শাহ আলম বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছিলাম না কী করবো। তখন তার কোন সাড়াশব্দ ছিল না। পথিমধ্যে একটি হাসপাতালের চিকিৎসক দেখালে তিনি জানান মারা গেছেন। ভোরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকাল ৭টায় গ্রামীণ হাসপাতালে ফিরে আসলে স্টাফরা গেট খুলতে চায়নি। পরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে যায়।’
স্বামী আক্তার মিয়া বলেন, ‘তারা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। সামান্য অপারেশনে একজন নারী কীভাবে মরতে পারে। এর আগেও তারা চিকিৎসার মাধ্যমে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আগে জানলে এ হাসপাতালে আসতাম না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বদিউজ্জামান বদি বলেন, ‘ডা. ফাহিমা শারমিন হানী ও ডা. দীপঙ্কর রায়ের তত্ত্বাবধানে সেলিনা বেগমের চিকিৎসা হয়েছিল। শুক্রবার বিকালে তার অপারেশন হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সকাল ৭টায় কাউন্সিলর ফজলু মিয়ার নেতৃত্বে হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
কাউন্সিলর ফজলু মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে এসে দেখি উত্তেজিত জনতা হাসপাতাল ভাঙচুর করছে। তাদের বাধা দিতে চেষ্টা করি। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
ডা. ফাহিমা শারমিন হানী ও ডা. দীপঙ্কর রায়কে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। সেলিনা বেগমের চিকিৎসা ও অপারেশনের বিষয়ে জানতে তাদের মুঠোফোনে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ বলেন, ‘গ্রামীণ হাসপাতালের দুর্ঘটনার কথা লোকমুখে শুনেছি। অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’