× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুলনায় ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও শুরু হয়নি মশা নিধন

খুলনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৬:১২ পিএম

খুলনায় ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও শুরু হয়নি মশা নিধন

খুলনাসহ সারা দেশে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই রোগ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা থেকে সারা দেশে জারি করা হয়েছে সতর্ক বার্তা। দেশের সবগুলো সিটি করপোরেশন এ নিয়ে প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন করলেও এখনও কাজ শুরু করেনি খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।

এদিকে প্রতিদিন নগরীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ৬ জন ও জেনারেল হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন ও জেনারেল হাসপাতালে ২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তবে এখনও কেউ ডেঙ্গুতে মারা যায়নি। নগরীতে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা নিধন ও নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু না করায় রোগ বিস্তার নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ‍সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, নতুন ভর্তি হয়েছে ৬ জন এবং ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছে ৯ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয় ৪ জন। ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি  গেছে ২ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। 

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. সুজাত আহমেদ জানান, জেলার ৯টি উপজেলা হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি। শুধু জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যেই খুলনাঞ্চলে বর্ষা শুরু হওয়ায় ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে খুলনা মহানগরীর মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণে এখনও কোনো পুরোপুরি কাজ শুরু করতে পারেনি সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে মশার যন্ত্রণায় রয়েছেন ১৬ লাখ নগরবাসী। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের প্রায় ৭০ হাজার হোল্ডিং বাড়ির আশপাশে ও নালা-নর্দমা এবং ডোবাগুলোতে মশার বিস্তার ঘটছে। কেসিসির দায়িত্বহীনতার কারণেই শহরে ডেঙ্গু রোগ বাড়বে বলে উদ্বিগ্ন নগরবাসী।

কেসিসির মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান জানান, খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১ ওয়ার্ড এলাকায় এখনও মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। তবে ইতোমধ্যেই মশা মারার প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণে কেসিসি তিনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের দ্বারা মশার উৎপাদন ক্ষেত্রে লার্ভা নিধন, ফগার মেশিনের মাধ্যমে উড়ন্ত মশা নিধন ও রাইট ডিজেল স্প্রের দ্বারা লার্ভা ও উড়ন্ত মশা উভয়ই নিধন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ সদস্যের একটি টাক্সফোর্স রয়েছে। টাক্সফোর্স বিশেষ বিশেষ সময়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, সংবাদপত্র অফিস, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন বড় বড় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের চাহিদা মোতাবেক ক্রাশ প্রোগ্রাম করা হয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, কেসিসির এ মশা নিধন ও নিয়ন্ত্রণ কাজের জন্য প্রতি বছর লার্ভাটিসাইড ওষুধ ক্রয়ে এক কোটি, এডাল্টিসাইড ওষুধ ক্রয়ে এক কোটি ৪০ লাখ এবং হ্যান্ড স্প্রেমেশিন ও ফগার মেশিন ক্রয়ে ৬ লাখ টাকাসহ মোট তিন কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণ কাজ তদারকির জন্য ৫ জন সহকারী কনজারভেন্সি অফিসার সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কর তাজুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি দেরিতে শুরু হওয়ায় মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণ কাজও দেরিতে শুরু করছে কেসিসি। বর্ষাকালে মশার প্রজনন ও উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। সেজন্য তারাও বর্ষার সময় থেকে মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণ কাজ করে থাকেন। ইতোমধ্যে মশক নিয়ন্ত্রণের ওষুধ কেনা হয়েছে। দ্রুতই নগরবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে রেহাই দিতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মশা নিধন ও নিয়ন্ত্রণ কাজ শুরু করা হবে। যদিও এ কার্যক্রম  ব্ছরব্যাপী হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা