সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৩ ০৯:৪৩ এএম
কিশোরগঞ্জ শহরতলির ভুবিরচর থেকে সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
কালো রাস্তার দুই ধারে সবুজ ধানক্ষেত। একটু দূরেই নিবিড় বৃক্ষশোভিত গ্রাম। আর ওপরে সুনীল ছায়া। কল্পনার মতন এখানে প্রকৃতি তার নিজস্ব মহিমায় এঁকে দিয়েছে অনবদ্য ফটোফ্রেম। এমন মোহনীয় সৌন্দর্যে এলাকার মানুষ কোলাহলে মুখর হয় প্রতিদিন বিকালে। কিশোরগঞ্জ শহরতলির ভুবিরচরের এই রাস্তায় এসে প্রায় সবাই সেলফি তোলেন। তাই এলাকার বাসিন্দারা এর নাম দিয়েছেন সেলফি রোড।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে সড়কটির সৌন্দর্যের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থীর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। তাই সেলফি রোডে খোলা আকাশের নিচে দোকান পেতে বসেছেন সদর উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন। সড়কের এমন নামকরণ সম্পর্কে বিল্লাল হোসেন জানান, প্রথম দিকে সড়কটির নাম নতুন সড়ক থাকলেও পরবর্তীতে অসংখ্য তরুণ সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেন। পরে দর্শনার্থীরা এসে এই সড়কটির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নাম দেন সেলফি রোড। সবার কাছে সেলফি রোড নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে সড়কটি। এখন সবাই এ নামেই চেনে বলে জানান বিল্লাল হোসেন।
ভুবিরচর গ্রামের ৫২ বছর বয়সি সিদ্দিক মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গ্রামের মানুষ মাঠে যারা কাজ করেন, কাজের ফাঁকে এখানে এসে বসে একটু বিশ্রাম নেন। যেহেতু গাছ আছে এর ছায়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যায়। দক্ষিণা ঝিরিঝিরি বাতাস মন উতলা করে দেয়। তিনি আরও জানান, একসময় এই গাছের নিচে বসে নানারকম সরস আড্ডা হতো। নানান জায়গা থেকে আমাদের এই রোডে মানুষ এসে সেলফি তোলেন। তাই নাম হয়েছে সেলফি রোড।
প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুপুর এবং সন্ধ্যায় এখানে আড্ডা দেন বিভিন্ন এলাকায় মানুষ। নোয়াপাড়া, ভুবিরচর, নধার, মাইজপাড়া গ্রামের মানুষসহ শহর ও শহরতরির অসংখ্য মানুষের আড্ডার স্থান এই সেলফি রোড। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা বয়সি মানুষের ভিড়। ভিড়কে কেন্দ্র করে সেলফি রোডে ঝালমুড়ি, ফুসকা, চটপটি, বাদামসহ খেলনা বিক্রেতাদের দেখা মেলে। অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে। সেলফি রোডে বসে বাদাম খায় আবার কেউ কেউ হেঁটে বেড়ায়। দলবদ্ধ হয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, স্থানীয় বয়স্কদের হেঁটে বেড়াতে দেখা যায়। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেলফি রোডে দর্শনার্থীর ভিড় থাকে।
নোয়াপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের বাড়িতে বেড়াতে আসা মো. রাজন নামে এক ব্যক্তি বলেন, এখানে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। বিকালে তাদের সঙ্গে সেলফি রোডে ঘুরতে এসেছি। অনেকেই সেলফি রোডে এসে ছবি ফেসবুকে আপলোড দেই। বেশ ভালো লাগছে। অবসর সময় কাটাতেই সেলফি রোডে মূলত আসা ও আড্ডা দেওয়া। অনেক লোকজন দেখে বেশ ভালো লাগছে। করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রী ইভা আক্তার বলেন, করিমগঞ্জ থেকে প্রায়ই সেলফি রোডে ঘুরতে আসি। এই রোডে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকজন ঘুরতে আসে। সূর্য ডোবার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বেশ ভালো লাগে। যশোদল বাজার থেকে আসা দুই যুবক বলেন, সেলফি রোড ছাড়া বৃহত্তর যশোদল এলাকায় তেমন দর্শনীয় স্থান নেই। নিকলী হাওরে আগে ঘুরতে যেতাম। হাওর বর্ষাকালে বিপজ্জনক। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এখন বিকালের সময়টা অধিকাংশ ভ্রমণপিপাসু সেলফি রোডে পার করে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকজন আসে। বিকালে এখানে বাস্তবে মেলা বসে।