× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যটকের অপেক্ষায় ভাসমান পেয়ারাপার্ক

স্বরূপকাঠি (ঝালকাঠি) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ০৮:৫১ এএম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১২:৪৪ পিএম

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ভাসমান পেয়ারাপার্ক। প্রবা ফটো

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ভাসমান পেয়ারাপার্ক। প্রবা ফটো

সবুজাভ জলে সারিবদ্ধভাবে শত শত নৌকা অপেক্ষমাণ। প্রতিটি নৌকা যেন কাঁচা ও পাকা পেয়ারার পাহাড়। নৌকার লগি ঠেলে বিক্রেতা এক পার থেকে অন্য পারে যাচ্ছেন।

ক্রেতারা পছন্দ মতো পেয়ারায় ভরে তুলছেন ট্রলার। অথবা বস্তা ভরে ডাঙায় রাখা ট্রাকে তুলে দিচ্ছেন। এরপর সেগুলো পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশে এমন দৃষ্টিনন্দন পেয়ারার বাজার একটিই আছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলা পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে।

সাম্প্রতিককালে এই পেয়ারা বাজার পর্যটকদের মনোযোগ কেড়েছে। সবুজে ঘেরা জলা-জঙ্গলের সঙ্গে ছবি তুলতে ও ভিডিও-ব্লগ তৈরি করতে এবং তাজা পেয়ারা খেতে স্বরূপকাঠি যেতে আগ্রহী তারা। আর পর্যটকদের এই আগ্রহকে অবলম্বন করে স্থানীয় চার বেকার যুবক গড়ে তুলেছেন ভাসমান পেয়ারাপার্ক। তারা অপেক্ষায় আছেন এবারের পেয়ারার মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পর্যটকদের বরণ করে নিতে। এবার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কারণে পেয়ারার রাজ্যে পর্যটকদের চাপ কয়েকগুণ বেশি হবে বলেও তাদের আশা।

পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের সুবিধা দিতে তিনটি পেয়ারাপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বাগানের খালের পাড় ও আশপাশে নান্দনিক পার্কগুলোর শৈল্পিক ব্যবস্থাপনা সবার নজর কাড়বে। পার্কে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বরিশাল অঞ্চলের হরেক রকমের খাবারের স্বাদ নিয়ে উদ্যোক্তরা প্রস্তুত।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুই তিন একর জমিতে নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় পার্কগুলো গড়ে তুলেছেন প্রণয় মজুমদার, জয় কীর্তনিয়া, অর্ণব মজুমদার ও প্রিন্স। পার্কটির ভেতরে রয়েছে অর্ধশত বসার স্থান, শিশুদের খেলার জন্য দোলনা, কাঠের ব্রিজ ও নৌকা। সড়ক ও নৌ উভয় পথে পেয়ারা বাগানে ভ্রমণ করতে পারবেন পর্যটকরা।

স্বরূপকাঠির এই পেয়ারারাজ্যে প্রতিবছর আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস এলে গোটা অঞ্চলের চিত্র পাল্টে যায়। প্রতিদিন কয়েকশত নৌকায় চাষিরা আসেন পেয়ারা বিক্রি করতে। পেয়ারা কিনতে ট্রাক ও বড় বড় ট্রলার নিয়ে আসেন পাইকাররা। স্থানীয়রা জানান, সবচেয়ে বড় ভাসমান হাট কুড়িয়ানা বাজার, আদমকাঠি বাজার। এসব বাজার পিরোজপুরের সন্ধ্যা নদী থেকে বয়ে আসা খালপাড়ে অবস্থিত।

আটঘর এলাকার পেয়ারা চাষি পরিতোষ মজুমদার জানান, তারা কয়েক পুরুষ ধরে পেয়ারা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

তিনি জানান, চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় পেয়ারা গাছে ফুল দেরিতে এসেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আদমকাঠি গ্রামের পেয়ারা চাষি প্রেমানন্দ মন্ডল।

তিনি জানান, কয়েকদিনের মধ্যে গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে বাজারে তোলা হবে। তখন পেয়ারার সুবাসে চারদিক ম ম করবে।

পেয়ারার বাজারকে কেন্দ্র করে পর্যটন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে স্বরূপকাঠির কৃষিবিদ চপল কৃষ্ণ নাথ জানান, ফেরিঘাটের বিড়ম্বনা না থাকায় পাইকার ও পর্যটকদের আগমন প্রতিবছরের চেয়ে এবার বেশি হবে। এতে শুধু পেয়ারা নয়, অন্য কৃষি পণ্যও ঢাকাসহ সারা দেশে অল্প সময়ে সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যটকদের জন্য কয়েকটি বিনোদন পার্ক গড়ে উঠায় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বরূপকাঠির সম্ভাবনাও বাড়ছে। এতে এলাকার অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

স্থানীয় চাষিরা জানান, তারা পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর পণ্যের ন্যায্য ও কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন। এ ছাড়া প্রাকৃতিক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসুদের স্বাগত জানাতেও প্রস্তুত তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা