রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩ ২১:০৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার নিয়ে ফের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে হৃদয় হাসান নামে গুলিবিদ্ধ যুবক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৭ নং ওয়ার্ডের আব্দুল জলিলের ছেলে। হৃদয় চনপাড়ার একটি খাবার হোটেলের মালিক। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে ২৩ জুন একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪২টি রামদা উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের চনপাড়ার শীর্ষ মাদক কারবারি ও ইউপি সদস্য বজলুর রহমান মারা যাওয়ায় ১২ জুন সেখানে উপনির্বাচন হয়। এরপর থেকে চনপাড়ার আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারের দখল নিয়ে কয়েক দিন পরপর চনপাড়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নাল ও শমসের সাহাবুদ্দির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এর জেরে কয়েক দিন ধরে সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় খাবার হোটেল বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়। পরে তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় ঢামেক হাসপাতালে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন জানান, দুদিন ধরে চনপাড়া উত্তপ্ত ছিল। রাতে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গুলিবিদ্ধ হৃদয় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চনপাড়ার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চনপাড়ায় খুন, মাদক কারবারসহ সব অপরাধ সংঘঠিত হয়। চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র একসময় আলোচিত ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বজলুর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন বজলুর নেতৃত্বেই চলত চনপাড়ার সব অপকর্ম। বজলু ছিল চনপাড়ার অঘোষিত গডফাদার। ইতোমধ্যে চনপাড়ায় ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি ও তার স্বামী হাসান মুহুরী, আনোয়ার মাঝি, সিটি শাহীনসহ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর বজলু র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়। পরে চলতি বছরের ৩১ মার্চ তিনি ঢামেক হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর থেকে চনপাড়ায় নতুন গডফাদার হতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেশ কয়েকটি গ্রুপ। এদের মধ্যে অন্যতম জয়নাল গ্রুপ, শাহাবুদ্দিন গ্রুপ, শমসের গ্রুপ, ইয়াছমিন গ্রুপ ও রায়হান গ্রুপ। চনপাড়ার আধিপত্য নিতে ইতোমধ্যে এসব পক্ষ বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, গত ১২ এপ্রিল বজলুর সাম্রাজ্য দখলে নিতে জয়নাল গ্রুপের সঙ্গে শমসের গ্রুপ ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় চারজন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হন। ৩০ এপ্রিল রাতভর চনপাড়ায় মাদক কারবার নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চনপাড়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়।
গত ১৯ ও ২০ মে দুই দিনব্যাপী চনপাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাওন গ্রুপ ও জয়নাল গ্রুপ, রায়হান, শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপ, ইয়াছমিন গ্রুপের সদস্যদের গোলাগুলি হয়। এ ঘটনায় সৈয়দ নামে এক দিনমজুর গুলিবিদ্ধ হন। তখন আহত হন অন্তত ৩০ জন। পুনরায় ১০ মে চনপাড়ায় মাদক কারবারিরা সংঘর্ষে জড়ায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।